মেসির সফর ঘিরে কেলেঙ্কারি! পদ খোয়ালেন অরূপ বিশ্বাস, বিতর্কের আবহে জেনে নিন টালিগঞ্জের ‘বেতাজ বাদশা’র সম্পত্তির পরিমাণ

গত কয়েক দিন ধরে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখন একটাই নাম— অরূপ বিশ্বাস। সল্টলেক যুবভারতী স্টেডিয়ামে ফুটবল সম্রাট লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা এবং মেসির সাথে ‘জোর করে’ ছবি তোলার অভিযোগ কার্যত কাল হলো রাজ্যের দাপুটে এই নেতার। প্রবল জনরোষ ও বিরোধীদের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। যদিও তিনি আবাসন ও বিদ্যুৎ দপ্তরের দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।
মেসি-কাণ্ড ও বিতর্কিত ইস্তফা: গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে মেসিকে দেখার জন্য হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেছিলেন ভক্তরা। কিন্তু অভিযোগ, মাঠের ভেতর অরূপ বিশ্বাস-সহ ভিভিআইপিদের ভিড়ে মেসিকে এক পলকও দেখতে পাননি সাধারণ মানুষ। উল্টে মেসির কাঁধে হাত দিয়ে অরূপের ছবি ভাইরাল হতেই ক্ষোভ আছড়ে পড়ে। মঙ্গলবার ‘নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে’ অরূপের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে অরূপের ‘সাদা পাতায়’ হাতে লেখা পদত্যাগপত্রে ‘ক্রীড়া’ বানান ভুল থাকা নিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার কটাক্ষ করে বলেছেন, “যিনি ক্রীড়া বানান জানেন না, তিনি কেমন ক্রীড়ামন্ত্রী?”
কত সম্পত্তির মালিক অরূপ বিশ্বাস? মন্ত্রিত্ব হারানোর এই আবহে অরূপের সম্পত্তির পরিমাণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল কৌতুহল তৈরি হয়েছে। ২০২১ সালের নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী তাঁর সম্পদের খতিয়ান একনজরে:
আয়ের গ্রাফ: ২০১৫-১৬ সালে অরূপের বার্ষিক আয় ছিল ৭ লক্ষ টাকার কিছু বেশি। যা ২০১৭-১৮ সালে একলাফে বেড়ে হয় ২১ লক্ষ ৩১ হাজার ১৫৬ টাকা।
ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স: বিভিন্ন ব্যাঙ্কে (স্টেট ব্যাঙ্ক, ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক, অন্ধ্র ব্যাঙ্ক) অরূপের জমা রাখা টাকার মোট পরিমাণ প্রায় ৬৫ লক্ষ ৫৪ হাজার ১৪৭ টাকা।
বিনিয়োগ ও সোনা: এলআইসিতে লক্ষ লক্ষ টাকার বিমা রয়েছে তাঁর। হলফনামা অনুযায়ী, ২০২১ সালে তাঁর কাছে থাকা সোনার মূল্য ছিল ৫ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা।
মোট অস্থাবর সম্পত্তি: সব মিলিয়ে অরূপ বিশ্বাস প্রায় ৯৩ লক্ষ ৩৮ হাজার ৬১০ টাকার মালিক।
স্থাবর সম্পত্তি: নিজের কোনো জমি বা কমার্শিয়াল বিল্ডিং নেই বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর একমাত্র স্থাবর সম্পত্তি হলো নিউ আলিপুরের ১৫০০ স্কয়ার ফুটের বাড়িটি, যা ১৯৯৭ সালে কেনা। বর্তমানে যার বাজারমূল্য প্রায় ২২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।
টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের ২০ বছরের বিধায়ক এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই নেতার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে মেসির এই সফর যে একটি বড় ‘ধাক্কা’, তা বলাই বাহুল্য। আপাতত তদন্তের স্বার্থে ক্রীড়া দপ্তর মুখ্যমন্ত্রী নিজেই নিজের হাতে রেখেছেন।