চোখের পলকে ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যায়? সমাধান করুন নিজেই

সকালে ১০০ শতাংশ চার্জ নিয়ে বাড়ি থেকে বের হলেন, অথচ দুপুর হতে না হতেই ফোনের স্ক্রিনে ফুটে উঠছে লাল সংকেত! বর্তমানে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম হলো ব্যাটারি ব্যাকআপ। অনেকেই এর সমাধানে পাওয়ার ব্যাংক বা নতুন ফোন কেনার কথা ভাবেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, ফোনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সামান্য কিছু সেটিংস পরিবর্তন করলেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব?
আপনার শখের ফোনের ব্যাটারি লাইফ কয়েক ঘণ্টা বাড়িয়ে নিতে নিচের পদক্ষেপগুলো আজই অনুসরণ করুন:
১. স্ক্রিন সেটিংসে বদল আনুন
ফোনের ব্যাটারির সবচেয়ে বড় শত্রু হলো অতিরিক্ত ‘ব্রাইটনেস’।
-
সমাধান: ব্রাইটনেস সবসময় ৪০-৫০ শতাংশের মধ্যে রাখুন। সম্ভব হলে ‘অটো-ব্রাইটনেস’ মোড চালু করুন। এছাড়া ‘স্ক্রিন টাইমআউট’ ৩০ সেকেন্ড বা ১ মিনিটে সেট করে রাখুন, যাতে ব্যবহারের পর দ্রুত ডিসপ্লে বন্ধ হয়ে যায়।
২. ডার্ক মোড হোক আপনার সঙ্গী
আপনার ফোনে যদি অ্যামোলেড (AMOLED) বা ওএলইডি (OLED) স্ক্রিন থাকে, তবে ‘ডার্ক মোড’ আশীর্বাদের মতো কাজ করবে। কালো পিক্সেল জ্বলে ওঠার জন্য ফোনের খুব কম শক্তি প্রয়োজন হয়। তাই সিস্টেম থেকে শুরু করে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ—সব জায়গায় ডার্ক মোড ব্যবহার করুন।
৩. ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা অ্যাপ থামান
আমরা অনেক সময় অ্যাপ বন্ধ করে দিলেও সেগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে এবং নীরবে ব্যাটারি শেষ করে।
-
করণীয়: ব্যাটারি সেটিংসে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের ‘ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাক্টিভিটি’ বা আইফোন ইউজাররা ‘ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ রিফ্রেশ’ বন্ধ করে দিন।
৪. লোকেশন ও কানেক্টিভিটি নিয়ন্ত্রণ
জিপিএস বা লোকেশন সার্ভিস ব্যাটারি দ্রুত খরচ করে। অ্যাপের পারমিশনে গিয়ে লোকেশন সার্ভিস ‘Always’ এর বদলে ‘While Using the App’ করে দিন। এছাড়া প্রয়োজন না থাকলে ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই এবং এনএফসি (NFC) বন্ধ রাখুন।
৫. ব্যাটারি সেভারের আগাম ব্যবহার
অনেকেই চার্জ ২০ শতাংশের নিচে নামলে ব্যাটারি সেভার চালু করেন। কিন্তু সারাদিন বাইরে থাকার পরিকল্পনা থাকলে চার্জ ৫০ শতাংশ থাকতেই ‘Battery Saver Mode’ অন করে দিন। এতে ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস কমে যাবে এবং আপনি ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা অতিরিক্ত ব্যাকআপ পেতে পারেন।
প্রো-টিপ: ফোনের ব্যাটারি ব্যবহারের পরিসংখ্যানে (Battery Statistics) গিয়ে মাঝেমধ্যেই চেক করুন কোন অ্যাপটি অস্বাভাবিক বেশি চার্জ শুষে নিচ্ছে। সন্দেহজনক বা অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো আনইনস্টল করে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।