“চপ-ঘুগনি কি ভাইপো-ভাইজীরা বিক্রি করবে?” মমতাকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর, লাভপুর থেকে ছুড়লেন তীব্র বাণ।

চপ-মুড়ি-ঘুগনি শিল্প নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সেই আগুনে ঘি ঢাললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার লাভপুরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে কার্যত তুলোধোনা করে শুভেন্দু প্রশ্ন তুললেন, রাজ্যের শিক্ষিত যুবকদের জন্য কি তবে এটাই ভবিতব্য?

ভাইপো-ভাইজীদের কেন টানলেন শুভেন্দু? মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসংস্থান নীতির সমালোচনা করতে গিয়ে শুভেন্দু সরাসরি টেনে আনেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারকে। তিনি বলেন, “মাননীয়া শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের চা-ঘুগনি বিক্রির কথা বলছেন। কিন্তু ওনার নিজের বাড়ির ভাইপো-ভাইজীরা কেন এই কাজ করছে না? আগে ওনার বাড়ির বেকারদের দিয়ে এই কাজ শুরু হোক।” এমনকি মমতার যে আত্মীয়র চাকরি গিয়েছে (ওএমআর বিতর্কে), তাঁকে দিয়েই এই ঘুগনি বিক্রির ব্যবসা শুরুর পরামর্শ দেন বিরোধী দলনেতা।

১০০০ টাকার ‘শ্লেষ’ ও ‘মিথ্যাশ্রী’ তকমা: এদিনের সভা থেকে এক অদ্ভুত কাণ্ড ঘটান শুভেন্দু। পকেট থেকে ১০০০ টাকা বের করে তিনি বলেন, “আমি এই এক হাজার টাকা দিয়ে যাচ্ছি, ওনার (মমতার) মামার বাড়িতে দিয়ে আসবেন। ওটা দিয়ে ব্যবসা শুরু করুক।” এখানেই থামেননি তিনি। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন ‘শ্রী’ প্রকল্পের নাম করে কটাক্ষ করে বলেন, “রাজ্যে যদি ‘মিথ্যাশ্রী’ পুরস্কার চালু করা হয়, তবে প্রথম পুরস্কারটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই পাবেন।”

চাকরির প্রতিশ্রুতি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ: শিক্ষিত যুবসমাজের ক্ষোভকে উসকে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা, “যোগ্যদের চাকরি চুরি হয়েছে। বিজেপিকে ক্ষমতায় আনুন, আমরা যোগ্যদের চাকরি ফিরিয়ে দেব।”

বীরভূমের লাভপুর থেকে শুভেন্দুর এই চাঁচাছোলা আক্রমণ আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে চপ-ঘুগনি বিতর্ককে যে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01