OMG! ‘রক্তবৃষ্টি’ নাকি প্রকৃতির লীলা, জেনেনিন এই দৃশ্যের আসল কারণ কী?

নীল জলরাশি নয়, চোখের সামনে দিগন্ত বিস্তৃত রক্তের মতো লাল সমুদ্র! সম্প্রতি ইরানের পারস্য উপসাগরীয় হরমুজ প্রণালির একটি সৈকতের এমনই এক শিহরণ জাগানিয়া ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় তুফান তুলেছে। টানা ভারী বৃষ্টির পর রাতারাতি পাল্টে যাওয়া এই প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে নেটিজেনদের মধ্যে যেমন বিস্ময় জেগেছে, তেমনই ছড়িয়েছে গভীর উদ্বেগ।

অনেকেই একে ‘রক্তবৃষ্টি’ বা অমঙ্গলের ইঙ্গিত বলে মনে করলেও, বিজ্ঞানীরা দিয়েছেন এক চমকপ্রদ ব্যাখ্যা।

কেন এমন রক্তবর্ণ সমুদ্র?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রহস্যময় ঘটনার পেছনে রয়েছে হরমুজ দ্বীপের এক অনন্য ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য। এই দ্বীপটি আসলে আয়রন অক্সাইড বা হেমাটাইট নামক খনিজে সমৃদ্ধ।

  • প্রক্রিয়া: অতিবৃষ্টির ফলে দ্বীপের ওপরের স্তরের লৌহসমৃদ্ধ মাটি ধুয়ে সমুদ্রের জলে মিশে যায়।

  • অক্সিডাইজেশন: বাতাসের সংস্পর্শে এসে হেমাটাইট দ্রুত উজ্জ্বল লাল বর্ণ ধারণ করে, যার ফলে সৈকতের বালু থেকে শুরু করে উপকূলীয় অগভীর জলরাশি গাঢ় লাল হয়ে ওঠে।

মঙ্গল গ্রহের সঙ্গে অদ্ভুত মিল!

মজার বিষয় হলো, মহাকাশ বিজ্ঞানীরা মঙ্গল গ্রহকে যে লাল রঙে দেখেন, তার কারণও এই একই খনিজ—হেমাটাইট। এ কারণেই হরমুজ দ্বীপকে পর্যটকদের কাছে ‘পারস্য উপসাগরের রেইনবো আইল্যান্ড’ বলা হয়। কারণ এখানে লাল ছাড়াও হলুদ, কমলা ও বেগুনি রঙের পাহাড় ও মাটি দেখা যায়।

পরিবেশের জন্য কি এটি ক্ষতিকর?

হঠাৎ জলের রঙ লাল হয়ে যাওয়ায় দূষণ বা রাসায়নিক বিক্রিয়ার ভয় পাচ্ছিলেন অনেকেই। তবে পরিবেশবিদরা অভয় দিয়ে জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। এতে পরিবেশ বা সামুদ্রিক প্রাণীদের কোনো ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি নেই। এটি কেবল প্রকৃতির হাজার বছরের ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের এক বিস্ময়কর বহিঃপ্রকাশ।

রহস্য আর সৌন্দর্যের এই মেলবন্ধনে হরমুজ দ্বীপ আবারও প্রমাণ করল, পৃথিবী আমাদের ভাবনার চেয়েও অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়।

সূত্র: ইউরো নিউজ