বনগাঁ-রানাঘাটে ‘মতুয়া গড়’ কাঁপছে শুনানির আতঙ্কে! ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ভোটারকে নোটিস, নাজেহাল দশা ঠাকুরবাড়ির

ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া শুরু হতেই বড়সড় অস্তিত্বের সংকটে মতুয়া সমাজ। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহকুমার ৪টি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ১ লক্ষ ৩৪ হাজারের বেশি ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। যার মধ্যে ৯০ শতাংশই মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। আর এই গণ-শুনানির খবর ছড়িয়ে পড়তেই বনগাঁ থেকে রানাঘাট— সর্বত্র আছড়ে পড়ছে ক্ষোভ ও আতঙ্ক।
নথি নেই, ভরসা কেবল ‘নাগরিকত্ব’: অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি সুব্রত ঠাকুর জানিয়েছেন, “কমিশন যেসব নথি চাইছে, বেশিরভাগ মতুয়ার কাছেই তা নেই। এখন একমাত্র রক্ষাকবচ হলো নাগরিকত্ব নেওয়া।” তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছেন যাতে দ্রুত নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। কারণ সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আগে নাগরিক হতে হবে, তারপরই মিলবে ভোটাধিকার।
‘নো বিজেপি নো তৃণমূল’— নয়া স্লোগান ঠাকুরবাড়িতে: রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর থেকে ক্রমশ আস্থা হারাচ্ছে মতুয়াদের একটি বড় অংশ। ঠাকুরবাড়ির সদস্যরাই এখন রাজনীতির লড়াইয়ে দুই ভাগে বিভক্ত। সাধারণ মতুয়াদের অভিযোগ, রাজনৈতিক দলগুলো তাঁদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করলেও প্রকৃত সমস্যার সমাধান করেনি। ফলে সমান্তরাল নেতাদের ডাকে এবার নতুন স্লোগান উঠেছে— ‘নো বিজেপি নো তৃণমূল’। নিজেদের ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে এবার সঙ্ঘবদ্ধ হওয়ার ডাক দিচ্ছে তারা।
কমিশনের ১১ নথিতে নেই CAA-র নাম? মতুয়াদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধন্দ তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম। কমিশন ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ১১টি নির্দিষ্ট নথির কথা বললেও, সেখানে কেন্দ্র প্রদত্ত ‘নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট’-এর উল্লেখ নেই। প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক মহিতোষ বৈদ্যের আশঙ্কা, “কেন্দ্র বলছে সার্টিফিকেট থাকলে ভয় নেই, কিন্তু কমিশনের লিস্টে তার নাম নেই। আমরা এখন গভীর সংশয়ে।”
মমতা বালা বনাম বিজেপি: মমতা বালা ঠাকুরের দাবি, তৃণমূল কখনও মতুয়াদের নিয়ে রাজনীতি করেনি, বরং বিজেপি তাঁদের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপদে ফেলেছে। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, নাগরিকত্ব সার্টিফিকেটের মাধ্যমেই সকলের নাম তালিকায় তোলা সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে, মতুয়াগড়ে এখন সাজ সাজ রব। একদিকে ফোনে নাগরিকত্বের মেসেজ ঢুকতে শুরু করায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও, অন্যদিকে কমিশনের শুনানিতে বাদ পড়ার আতঙ্ক তাঁদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।