নুন আনতে পান্তা ফুরায়, তবু দমে না জেদ! হাওড়ার ‘অভাবী’ ঘরের সন্তানদের হাত ধরেই দেশের ঘরে আসছে পাওয়ার লিফটিং-এর পদক

বাংলার পাওয়ার লিফটিং-এর আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে হাওড়া। কিন্তু এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে এক করুণ ও লড়াকু কাহিনী। জেলার স্কোয়াট, ডেডলিফট আর বেঞ্চপ্রেসে যারা আজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে পদক জিতছেন, তাঁদের সিংহভাগই উঠে এসেছেন দিন আনা দিন খাওয়া অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার থেকে।
ফল বিক্রেতার মেয়ের বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন: সম্প্রতি আন্দুলে অনুষ্ঠিত ইস্টার্ন ইন্ডিয়া পাওয়ার লিফটিং প্রতিযোগিতায় নজর কেড়েছেন বালির উদীয়মান নক্ষত্র স্নেহা ঘরামি। স্নেহার বাবা একজন সাধারণ ফল বিক্রেতা। নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে বড় হওয়া স্নেহা নিজের প্রতিভায় বিদেশের মাটিতে খেলার সুযোগ পেলেও, বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চরম অর্থকষ্ট। শুধু স্নেহা নন, হাওড়ার আনাচে-কানাচে এমন বহু প্রতিভা অর্থের অভাবে মাঝপথে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে।
সাফল্যের খতিয়ান: পাওয়ার লিফটিং এবং ওয়েট লিফটিং— এই দুই বিভাগেই গত কয়েক বছরে হাওড়ার যুবক-যুবতীরা অভাবকে সঙ্গী করেই দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। ইস্টার্ন ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতায় হাওড়ার খেলোয়াড়রা ফের প্রমাণ করেছেন যে, সুযোগ পেলে তাঁরা বিশ্ব জয় করতে পারেন।
সহায়তার আর্জি: রাজ্য পাওয়ার লিফটিং অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি তথা সর্বভারতীয় সহকারী সভাপতি কানাইলাল দে আক্ষেপের সুরে জানান, “বাংলার অধিকাংশ প্রতিভাবান খেলোয়াড়ই দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসে। প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও শুধু টাকার অভাবে অনেকেই মাঝপথে খেলা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে এই ছেলে-মেয়েরা দেশের জন্য আরও অনেক বেশি পদক আনতে পারবে।”
হাওড়ার এই লড়াকু খেলোয়াড়দের লড়াই আজ শুধু মাঠের নয়, পেটের খিদের বিরুদ্ধেও। এখন দেখার, সরকারের সাহায্যের হাত তাঁদের বিশ্ব জয়ের স্বপ্নকে পূর্ণ করতে কতটা এগিয়ে আসে।