বুনিয়াদপুর স্টেশনে ‘ফার্স্ট ক্লাস’ দুর্ভোগ! সাজানো ওয়েটিং রুমে তালা, ঠান্ডায় খোলা প্ল্যাটফর্মেই রাত কাটছে যাত্রীদের

রেল স্টেশনে ঝাঁ চকচকে ফার্স্ট ক্লাস ওয়েটিং রুম রয়েছে, কিন্তু তাতে সবসময় ঝোলে বড়সড় তালা। হাড়কাঁপানো শীতে বা বর্ষার প্রতিকূলতায় যখন শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীরা খোলা প্ল্যাটফর্মে কষ্ট পাচ্ছেন, তখনও রহস্যজনক কারণে বন্ধ থাকছে প্রতীক্ষালয়টি। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বুনিয়াদপুর রেল স্টেশনের এই চরম অব্যবস্থা নিয়ে এবার ক্ষোভে ফেটে পড়লেন নিত্যযাত্রীরা।

ইঞ্জিনিয়ারের নির্দেশও ‘কাগজে-কলমে’: অভিযোগ, সম্প্রতি কাটিহার ডিভিশনের রেল ইঞ্জিনিয়ার স্টেশনটি পরিদর্শনে এসে দ্রুত ওয়েটিং রুম খুলে দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্দেশের তোয়াক্কা না করে এখনও বন্ধ রাখা হয়েছে ওয়েটিং রুম। যাত্রী বিপ্লব পোদ্দারের কথায়, “ওয়েটিং রুম থাকলেও খোলে না। কখনও খুললেও রেল পুলিশের ধমক খেতে হয়। এই হাড়কাঁপানো ঠান্ডাতেও আমাদের বাইরেই বসে থাকতে হচ্ছে।”

চাবি হাতে স্টেশন মাস্টারের ‘খামখেয়ালি’? নিত্যযাত্রীদের আরও গুরুতর অভিযোগ, স্টেশন মাস্টার অসিত দাসের ইচ্ছেতেই এই ওয়েটিং রুম বন্ধ থাকছে। এমনকি প্রাকৃতিক প্রয়োজনে শৌচালয় ব্যবহার করতে হলেও স্টেশন মাস্টারের কাছে গিয়ে চাবি আনতে হয় এবং কাজ শেষে আবার তা ফেরত দিতে হয়। এক যাত্রী মৃণালকান্তি সিংহ রায় জানান, “রেলযাত্রীদের সুবিধার বদলে এখানে হয়রানিই বেশি হচ্ছে।”

খোদ রেল পুলিশের বিস্ফোরক মন্তব্য: সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে স্টেশনে কর্মরত রেল পুলিশের আধিকারিক কৃষ্ণেন্দু দাসের বয়ানে। তিনি ইটিভি ভারতকে জানান, “আমি এখানে আসার পর থেকেই স্টেশন মাস্টারকে ওয়েটিং রুম খোলার কথা বলেছি। কিন্তু তিনি গা জোয়ারি করে তা খোলেন না। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সব জানাব।”

নিরুত্তর স্টেশন মাস্টার: এই চরম অভিযোগ নিয়ে বুনিয়াদপুরের স্টেশন মাস্টার অসিত দাসের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, সাধারণ যাত্রীদের এই ভোগান্তি নিয়ে কেন এত উদাসীন রেল প্রশাসন?

সামনে যখন শীতের দাপট আরও বাড়বে, তখন রাতের ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা দূরপাল্লার যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আরাম সুনিশ্চিত করতে রেল কবে এই তালা খুলবে— এখন সেদিকেই তাকিয়ে বুনিয়াদপুরবাসী।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01