১২০ কিমি দূর থেকেই খতম হবে শত্রু! ড্রাগন-পাক সীমান্তে এবার ভারতের ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ পিনাকা Mk-III, কাঁপছে পড়শি দেশ।

১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে শত্রুঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়ে যে ‘পিনাকা’ রকেট সিস্টেম ভারতের জয়ের পথ প্রশস্ত করেছিল, এবার তারই এক বিধ্বংসী সংস্করণ আসতে চলেছে সীমান্তে। ডিআরডিও (DRDO) তৈরি পিনাকা এমকে-III (Pinaka Mk-III) এখন আগের চেয়েও বেশি স্মার্ট, দ্রুত এবং মারাত্মক। চিন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্তে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মাঝে এই ক্ষেপণাস্ত্র-সম রকেট সিস্টেমকে দ্রুত নিজেদের বহরে অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

পিনাকা এমকে-III-এর আসল শক্তি ঠিক কোথায়? এতদিন সেনাবাহিনীর কাছে পিনাকার যে সংস্করণ ছিল, তার পাল্লা ছিল ৪০ থেকে ৭৫ কিলোমিটার। কিন্তু নতুন পিনাকা এমকে-III সরাসরি ১২০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর মানে হলো, ভারতীয় জওয়ানরা নিজের সীমানার ভেতরে নিরাপদে থেকেই শত্রুপক্ষের গভীরে অবস্থিত ক্যাম্প, অস্ত্রভাণ্ডার বা বাঙ্কার নিমেষে ধ্বংস করে দিতে পারবে।

কেন একে ‘স্মার্ট রকেট’ বলা হচ্ছে?

নির্ভুল নিশান: এটি কেবল একটি সাধারণ রকেট নয়, বরং একটি ‘গাইডেড রকেট’। উন্নত নেভিগেশন সিস্টেম থাকায় এটি মাঝ আকাশেও নিজের গতিপথ বা দিক পরিবর্তন করতে পারে।

ক্ষেপণাস্ত্রের মতো ক্ষমতা: বাতাসের চাপ বা অন্য কোনো কারণে রকেট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার উপক্রম হলে এর সেন্সর তা শনাক্ত করে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে সঠিক পথে ফিরে আসে।

তীব্র গতি: একটি পিনাকা ব্যাটারি মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে একাধিক রকেট নিক্ষেপ করতে পারে, যা শত্রুকে পালটা আঘাত করার বা লুকানোর কোনো সুযোগই দেয় না।

সীমান্তে কেন এত তাড়াহুড়ো? লাদাখ ও অরুণাচল সীমান্তে চিনের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে পাহাড়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা শত্রুঘাঁটি ধ্বংস করাটা ভারতীয় সেনার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। পিনাকা এমকে-III পাহাড়ের জটিল ভূপ্রকৃতিতেও সমান কার্যকর। যেহেতু এটি সম্পূর্ণ ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’, তাই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে রকেট বা খুচরো যন্ত্রাংশের সরবরাহে কোনো ঘাটতি হওয়ার ভয় নেই। আগামী ১-২ বছরের মধ্যেই এই সিস্টেম সীমান্তে মোতায়েন করার লক্ষ্য নিয়েছে সেনা।

মিসাইলের মতো নির্ভুলতা অথচ খরচ অনেক কম— এই কম্বিনেশনেই পিনাকা এমকে-III হয়ে উঠতে চলেছে ভারতের নতুন ‘গেম চেঞ্জার’।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01