“আমিই কি বলির পাঁঠা?” পুরাতন মালদায় চেয়ারম্যান পদে বিভূতি ঘোষের অভিষেক, ক্ষোভ উগরে দিলেন কার্তিক ঘোষ

বুধবার পুরাতন মালদা পুরসভায় সম্পন্ন হলো বহুচর্চিত নেতৃত্ব বদল। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নিলেন ১২ নম্বর ওয়ার্ডের অভিজ্ঞ কাউন্সিলর বিভুতি ঘোষ। তবে এই ক্ষমতা হস্তান্তর পর্ব মসৃণ হলেও, প্রাক্তন চেয়ারম্যান কার্তিক ঘোষের গলায় শোনা গেল একরাশ অভিমান ও ক্ষোভের সুর।

শপথ অনুষ্ঠানেই ‘বিস্ফোরক’ প্রাক্তন চেয়ারম্যান
এদিন মালদা সদর মহকুমা শাসক সুমন মজুমদারের উপস্থিতিতে শপথ গ্রহণ করেন বিভূতি ঘোষ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেও প্রাক্তন চেয়ারম্যান কার্তিক ঘোষ চাঁচাছোলা ভাষায় নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, লোকসভা নির্বাচনে জেলাজুড়ে তৃণমূলের ফল আশানুরূপ না হওয়ার দায় একাই তাঁর ঘাড়ে চাপিয়ে তাঁকে ‘বলির পাঁঠা’ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ইংরেজবাজার পুরসভা বা খোদ মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের কেন্দ্রেও ফল খারাপ হয়েছে, কিন্তু কোপ পড়ল শুধু আমার ওপরেই।”

আবির খেলা ও উৎসব নিয়ে কটাক্ষ
চেয়ারম্যান বদলের পর তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে যে উল্লাস ও আতশবাজি ফাটানোর ঘটা দেখা যায়, তা নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করেছেন কার্তিক ঘোষ। তিনি খোঁচা দিয়ে বলেন, “এমন ভাবে উৎসব হচ্ছে যেন বিজেপিকে হারিয়ে আজ বোর্ড দখল করা হলো। এতে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাবে।” নিজের ক্ষোভ জাহির করে শুভেচ্ছা বিনিময়ের আগেই সভাকক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি।

বিভূতি ঘোষের লক্ষ্য: চতুর্থবারের দায়িত্ব
অন্যদিকে, নতুন দায়িত্ব নিয়ে বিভূতি ঘোষ সকলকে একসঙ্গে নিয়ে চলার বার্তা দিয়েছেন। এটি তাঁর চেয়ারম্যান হিসেবে চতুর্থ ইনিংস। তিনি বলেন, “দল আমাকে যোগ্য মর্যাদা দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মেনে আগামী দিনে পুর পরিষেবাকে আরও উন্নত করাই আমার লক্ষ্য।” কার্তিক ঘোষের ক্ষোভ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন যে দলে কোনো গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই এবং সবাই মিলেমিশেই কাজ করবেন।

পুরসভার সমীকরণ
২০ আসনের পুরাতন মালদা পুরসভায় ১৮টি আসনই তৃণমূলের দখলে। ফলে ক্ষমতায় বদল হলেও প্রশাসনিকভাবে কোনো বাধা ছিল না। তবে জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী জানিয়েছেন, কোথাও কোনো সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়া হবে।

শপথের পর নতুন চেয়ারম্যান বিশাল মিছিল করে শহর পরিক্রমা করেন। এখন দেখার, কার্তিক ঘোষের এই প্রকাশ্যে উগরে দেওয়া ক্ষোভ আগামী দিনে জেলা তৃণমূলের অন্দরে নতুন কোনো মেরুকরণ তৈরি করে কি না।