অক্সিজেন সিলিন্ডারে পরপর বিস্ফোরণ, মাঝরাতে ফের বিধ্বংসী আগুন

গভীর রাতে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠল উত্তর কলকাতা। কাঁকুড়গাছির লোহাপট্টিতে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডারের গোডাউনে বিধ্বংসী আগুনের জেরে তৈরি হল বিভীষিকাময় পরিস্থিতি। আগুনের তীব্রতা আর একের পর এক বিস্ফোরণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন কয়েক হাজার মানুষ।

বিস্ফোরণের তীব্রতায় উড়ল সিলিন্ডার! স্থানীয় সূত্রে খবর, রাত আড়াইটে নাগাদ কাঁকুড়গাছির ১৫০ ঘোষবাগান লেনের একটি অক্সিজেন গোডাউনে প্রথম আগুন লাগে। এর কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় একের পর এক সিলিন্ডার বিস্ফোরণ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মাত্র ২০-২৫ মিনিটের মধ্যে ১০০টিরও বেশি সিলিন্ডার ফেটে যায়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ঘরবাড়ির জানলার কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আস্ত সিলিন্ডার আগুনের গোলার মতো কয়েকশো মিটার দূরে উড়ে গিয়ে পড়ে আশপাশের বাড়ি ও রাস্তায়।

পুড়ে ছাই একাধিক কারখানা অক্সিজেন গোডাউনে লাগা আগুন মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে পাশের লোহার কারখানা ও প্লাস্টিকের গোডাউনে। একটি জ্বলন্ত সিলিন্ডার উড়ে গিয়ে পড়ে পাশের একটি সুতোর কারখানায়, যার ফলে সেখানেও ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। ২ কিলোমিটার দূর থেকেও বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

দমকলের ১৫টি ইঞ্জিনের লড়াই খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের ১৫টি ইঞ্জিন। ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয় কর্মীদের। দীর্ঘক্ষণের প্রচেষ্টায় বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই সেখানে পৌঁছে যান স্থানীয় বিধায়ক সুপ্তি পাণ্ডে।

ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান:

  • হতাহতের খবর: অলৌকিকভাবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির খবর মেলেনি।

  • সম্পত্তি: একাধিক বাড়ি এবং অন্তত ৩-৪টি কারখানা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

  • তদন্ত: ঠিক কী কারণে প্রথম আগুনটি লেগেছিল, তা খতিয়ে দেখছে দমকল ও পুলিশ। শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কোনও গাফিলতি, তা ফরেনসিক পরীক্ষার পরই স্পষ্ট হবে।

মধ্যরাতের এই ঘটনায় গোটা এলাকায় এখনও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। লোহাপট্টির নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।