সোনার দোকানে ডাকাতিতে পুলিশের মেগা সাকসেস! ১৭১টি সিসিটিভি খতিয়ে উত্তরপ্রদেশ থেকে পাকড়াও মূল পাণ্ডারা

তিন মাসের দীর্ঘ টানটান অপারেশন শেষে বড়সড় সাফল্য পেল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। গত ২২ সেপ্টেম্বর তমলুকের মিলননগর বাজারের এক জনবহুল সোনার দোকানে দিনের আলোয় যে হাহাকার সৃষ্টি হয়েছিল, তার মূল পাণ্ডাদের এবার উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেফতার করা হল। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ এবং লুঠ হওয়া সোনা।
দিনের আলোয় সেই ভয়াবহ ডাকাতি: গত ২২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা নাগাদ মিলননগর বাজারের ওই সোনার দোকানে সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের একটি দল হানা দেয়। দোকানের কর্মীদের মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে, তাঁদের হাত-মুখ বেঁধে কয়েক মিনিটের মধ্যে সর্বস্ব লুঠ করে চম্পট দিয়েছিল তারা। জনবহুল এলাকায় সাতসকালে এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। ঘটনার চার দিনের মাথায় পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করলেও মূল অপরাধীরা ভিন রাজ্যে গা ঢাকা দিয়েছিল।
১৭১টি সিসিটিভি ক্যামেরায় কেল্লাফতে: তদন্তে নেমে জেলা পুলিশ কার্যত খড়ের গাদায় সূঁচ খোঁজার কাজ শুরু করে। এলাকার প্রায় ১৭১টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে দুষ্কৃতীদের পালানোর রুট ম্যাপ তৈরি করে তমলুক থানার বিশেষ দল। সেই সূত্রের ওপর ভিত্তি করেই উত্তরপ্রদেশে পাড়ি দেয় পুলিশ।
আগ্রা ও গাজিয়াবাদে পুলিশের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক: বুধবার তমলুকে এক সাংবাদিক বৈঠকে ভারপ্রাপ্ত জেলা পুলিশ সুপার মিতুন দে জানান, উত্তরপ্রদেশের আগ্রা ও গাজিয়াবাদ থেকে দুই মূল অভিযুক্তকে পাকড়াও করা হয়েছে। তল্লাশিতে তাঁদের কাছ থেকে মিলেছে:
একটি পিস্তল ও ১০টি কার্তুজ।
প্রায় ১৬০ গ্রাম ওজনের লুঠ হওয়া সোনা।
পেশাদার আন্তঃরাজ্য গ্যাং: পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে একজনকে মঙ্গলবার তমলুক আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। অন্যজনকে ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে আসা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এই ডাকাত দলটি অত্যন্ত পেশাদার এবং ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত। এই চক্রের শিকড় আরও কতদূর বিস্তৃত, তা জানতে ধৃতদের জেরা করা হচ্ছে।