বিশেষ: কবে, কখন তৈরি হয়েছিল বালিশ? জেনেনিন বালিশের আবিষ্কারের নেপথ্য কাহিনী

সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনির পর নরম বালিশে মাথা রাখা মানেই স্বর্গীয় সুখ। কিন্তু আপনি কি জানেন, যে বালিশে আজ আপনি পরম শান্তিতে ঘুমোচ্ছেন, তার শুরুটা হয়েছিল প্রায় ৯ হাজার বছর আগে? আর সেই বালিশ এখনকার মতো নরম তুলতুলে তো ছিলই না, বরং তা ছিল নিরেট পাথরের!

শুরুটা যেখানে: ইতিহাস বলছে, পৃথিবীর প্রথম বালিশের ব্যবহার শুরু হয় প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় (বর্তমান ইরাক)। তবে সে সময় বালিশ আরামের জন্য নয়, বরং ব্যবহৃত হতো মাথাকে মাটি থেকে উঁচুতে রাখার জন্য, যাতে ঘুমের মধ্যে মুখে কোনো পোকামাকড় না ঢোকে। সেই বালিশ তৈরি হতো শক্ত পাথর দিয়ে, যার মাঝখানটা ছিল অর্ধচন্দ্রাকৃতি।

দেশের ভিন্নতায় বালিশের ভিন্ন রূপ:

  • প্রাচীন মিশর: মিশরীয়রা বিশ্বাস করত মানুষের মাথা শরীরের আধ্যাত্মিক অংশ। তাই মাথাকে সুরক্ষিত রাখতে তারা পাথরের খোদাই করা শক্ত বালিশ ব্যবহার করত।

  • চীন: চীনারা নরম বালিশ বানাতে জানলেও তারা ইচ্ছা করেই ব্রোঞ্জ, বাঁশ বা চীনামাটির তৈরি শক্ত বালিশ ব্যবহার করত। তাদের ধারণা ছিল, নরম বালিশ শরীরের শক্তি কমিয়ে দেয়।

  • গ্রিস ও রোম: আরামদায়ক বালিশের বিবর্তন মূলত শুরু হয় গ্রিস ও রোমে। তারা কাপড়ের ভেতরে খড় বা পাখির পালক ভরে নরম বালিশ তৈরি করত। তবে রোমান পুরুষরা বালিশ ব্যবহার করাকে ‘দুর্বলতা’র প্রতীক মনে করতেন!

আভিজাত্যের প্রতীক থেকে আধুনিক রূপ: মধ্যযুগে বালিশ ছিল কেবল ধনকুবেরদের বিলাসিতা। সাধারণ মানুষের কাছে এর নাগাল ছিল না। কিন্তু শিল্প বিপ্লবের হাত ধরে বালিশের গণ উৎপাদন শুরু হয়। ১৯৬০-এর দশকে পলিয়েস্টার কাপড়ের উদ্ভাবন বালিশের জগতে বিপ্লব আনে।

আজকের আধুনিক বালিশ: বর্তমানে বালিশ শুধু আরামের মাধ্যম নয়, বরং এটি স্বাস্থ্যেরও খেয়াল রাখে। বাজারে এখন মেমোরি ফোম, কুলিং জেল থেকে শুরু করে ঘাড়ের ব্যথা কমানোর জন্য ল্যাভেন্ডার যুক্ত ভেষজ বালিশও পাওয়া যায়। পাথর থেকে শুরু হওয়া এই সফর আজ এসে ঠেকেছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে।