বিশেষ: বিমানের পাইলটদের খাবার সাধারণ যাত্রীদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয় কেন?

বিমানে যাত্রীদের জন্য যে খাবার পরিবেশন করা হয়, পাইলটদের জন্য মেনু থাকে তার থেকে একদম আলাদা। শুধু তাই নয়, বিমানের দুই পাইলটকেও (ক্যাপ্টেন এবং ফার্স্ট অফিসার) কখনোই একই খাবার দেওয়া হয় না। আপাতদৃষ্টিতে একে বিলাসিতা মনে হলেও, এর পেছনে লুকিয়ে আছে বিমানের সুরক্ষা ও শত শত যাত্রীর প্রাণের নিরাপত্তা।

কেন এই ভিন্নতা? জেনে নিন আসল কারণ:

  • খাদ্যে বিষক্রিয়া (Food Poisoning) রোধ: এই নিয়মের প্রধান কারণ হলো ‘ফুড পয়জনিং’। যদি কোনো নির্দিষ্ট খাবারে বিষক্রিয়া বা ব্যাকটেরিয়া থাকে এবং দুই পাইলটই সেই একই খাবার খান, তবে দুজনেই একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। মাঝ আকাশে দুই পাইলটই কাজ করতে অক্ষম হয়ে পড়লে বিমান দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।

  • বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা: যদি একজন পাইলট অসুস্থ হয়ে পড়েন, তবে অন্যজন যাতে সুস্থ থেকে নিরাপদে বিমানটি অবতরণ করাতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই তাঁদের জন্য আলাদা আলাদা খাবার (যেমন—একজন চিকেন খেলে অন্যজন ফিশ বা ভেজ) রাখা হয়।

  • উচ্চমানের পুষ্টি ও হজম: পাইলটদের খাবারে সাধারণত কাঁচা লবণ, অতিরিক্ত মসলা বা হজমে সমস্যা করতে পারে এমন উপাদান এড়িয়ে চলা হয়। তাঁদের খাবার অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর এবং পরীক্ষা করা থাকে যাতে ককপিটে তাঁদের মনোযোগ বিচ্যুত না হয়।

  • খাবারের উৎস: অনেক সময় পাইলটদের জন্য খাবার সরাসরি বিমানের ক্যাটারিং সার্ভিস থেকে না এসে বিশেষ ‘এলিট’ কিচেন থেকে আসে, যা যাত্রীদের খাবারের চেয়েও বেশি সুরক্ষিত ও তাজা থাকে।

** মজার তথ্য:** যদিও এটি কোনো সরকারি আইন নয়, তবে বিশ্বের প্রায় সব বড় এয়ারলাইন্স কোম্পানি নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থে এই নিয়মটি কঠোরভাবে মেনে চলে। এমনকি পানীয়ের ক্ষেত্রেও তাঁদের জন্য থাকে আলাদা বোতলজাত জল।