জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা, বাংলাদেশ প্রসঙ্গে হুঁশিয়ারি এবং কংগ্রেসের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি, উত্তাপ বাড়ালেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তাঁর কড়া মন্তব্যের মাধ্যমে আবারও জাতীয় এবং রাজ্যের রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশ প্রসঙ্গ থেকে শুরু করে কংগ্রেসের সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে ওঠা স্লোগান—দু’টি বিষয়েই তিনি কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন, যা নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সার্বভৌমত্ব ভাঙার অভিযোগ

একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বিস্ফোরক অভিযোগ করেন যে, গত এক বছর ধরে বাংলাদেশে বারবার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে আলাদা করে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই ধরনের মানসিকতা ভারতের সার্বভৌমত্বের জন্য চরম বিপজ্জনক।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের একাংশের মধ্যে ভারতের বিরুদ্ধে খারাপ মানসিকতা কাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে তাদের প্রতি অতিরিক্ত সহানুভূতি দেখানোর প্রয়োজন নেই। যদি তারা এভাবে ভারতের সঙ্গে আচরণ করে, তবে তাদের বুঝিয়ে দিতে হবে—ভারত নীরব থাকবে না।” তিনি বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে ইঙ্গিত দেন যে, উত্তর-পূর্ব ভারতের অখণ্ডতা নিয়ে লাগাতার উসকানি দেওয়া হলে ভারত কঠোর অবস্থান নিতে পিছপা হবে না।

কংগ্রেসের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি

অন্যদিকে, কংগ্রেসের একটি সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে স্লোগান তোলার ঘটনাতেও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ওই স্লোগানগুলিকে “অশালীন এবং অসভ্য আচরণের পরিচয়” বলে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, দেশের প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে এমন ভাষা ব্যবহার করা গোটা দেশের অপমান।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই ঘটনার জন্য কংগ্রেস নেতৃত্ব, বিশেষ করে রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে সরাসরি দায় নিতে এবং জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, “তাঁরা যদি নিজেদের দলকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারেন, তাহলে দেশের গণতান্ত্রিক পরিসরে তার প্রভাব পড়বেই।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা ভোটের আগে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই মন্তব্য রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও তীব্র করবে।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01