মেসি-রোনাল্ডোর মূর্তি বিতর্কে নয়া মোড়! ঋত্বিক রোশন না মাইকেল জ্যাকসন? যুবভারতীর গণ্ডগোল ভাইরাল

লেকটাউনে শিল্পী মন্টি পালের তৈরি লিওনেল মেসির সদ্য উন্মোচিত মূর্তি নিয়ে যুবভারতীর মাঠে তুমুল বিতর্ক, বিশৃঙ্খলা ও বিনোদনের রেশ এখনও কাটেনি। কেউ বলছেন, মেসির চোখে নাকি ঋত্বিক রোশনের ছায়া, কেউ আবার খুঁজে পাচ্ছেন খুড়তুতো মাসির ভাই কিংবা মেহতাব হোসেনের মিল! মূর্তির মুখাবয়ব নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিম আর সরস মন্তব্যের বন্যা বইলেও, এই ‘বিপর্যয়’-এর শিকার শুধু মেসি একা নন। তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো থেকে পপ কিংবদন্তী মাইকেল জ্যাকসন—বিশ্বের বহু তারকাকেই একইভাবে অদ্ভুত দর্শন ফলকের সামনে হাসিমুখে করতালি দিতে হয়েছে।
কলকাতার ৭০ ফুট উঁচু মেসির মূর্তির স্কেল তাক লাগালেও মুখের গড়ন নিয়েই যাবতীয় প্রশ্ন। চোখ কুঁচকে তাকালে ঋত্বিক রোশনের সাদৃশ্য নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা ভারতীয় ফুটবলের কঙ্কালসার বাস্তবকে আরও নগ্ন করে দিয়েছে বলেই মত অনেকের।
একইরকম ‘বিপর্যয়’ নেমে এসেছিল আরও কয়েকজনের কপালে:
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (পর্তুগাল): মাদেইরা বিমানবন্দরে উন্মোচিত তাঁর মূর্তি নিয়ে রীতিমতো হাসির রোল উঠেছিল বিশ্বজুড়ে। শিল্পীর যুক্তি ছিল, “সব রুচির বিষয়!”—কিন্তু নেটিজেনরা সেই মূর্তিতে নিয়াল কুইন থেকে কার্টুন চরিত্রের মিল খুঁজে পেয়েছিল।
অ্যালান শিয়েরার (ইংল্যান্ড): নিউক্যাসলের এই কিংবদন্তী স্ট্রাইকারের মূর্তিতে গোলের পর ট্রেডমার্ক উদ্যাপনের হাত এমন ভঙ্গিতে তোলা হয়েছে, যা দেখে পরীক্ষামূলক শিল্পকর্ম মনে হতে পারে।
মহম্মদ সালাহ (মিশর): ২০১৮ সালে উন্মোচিত তাঁর মূর্তির ভঙ্গিমা এতটাই বেমানান ছিল যে, অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, এ কি সত্যিই লিভারপুলের তারকা?
মাইকেল এসিয়েন (ঘানা): কুমাসির এই মূর্তির দেহের অনুপাত ও মুখের ভঙ্গি দেখে পুরনো ভিডিও গেম ‘সেনসিবল সকারে’র কথা মনে পড়া স্বাভাবিক।
টেড বেটস (ইংল্যান্ড): ‘মিস্টার সাউদাম্পটন’-এর মূর্তির মুখ এতটাই ভুল ছিল যে, তা চিরশত্রু পোর্টসমাউথের প্রাক্তন কর্তা মিলান মান্দারিচের মুখের সঙ্গে মিলে যায়! এক বছরের মধ্যে নতুন মূর্তি গড়তে হয় কর্তৃপক্ষকে।
মাইকেল জ্যাকসন (ইংল্যান্ড): ফুটবল মাঠের সঙ্গে পপ তারকার কী সম্পর্ক? ২০১১ সালে ফুলহ্যামের মাঠের বাইরে বসানো এই ৭.৫ ফুট মূর্তি এতটাই বেমানান ছিল যে দু’বছরের মাথায় তা সরিয়ে ফেলা হয়।
অর্থাৎ, এই সমস্ত ঘটনা প্রমাণ করে যে, একজন মহান ব্যক্তিত্বের প্রতি নিবেদিত শ্রদ্ধার্ঘ্যও কখনও কখনও হাস্যরসের স্মারকে পরিণত হতে পারে।