রোড আইল্যান্ডের ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে বন্দুকবাজের হানা, নিহত ২, আহত ৮; ফাইনাল পরীক্ষার সময় গুলি, আতঙ্কে ক্যাম্পাস লকডাউন

ফের বন্দুকের তাণ্ডবে রক্তাক্ত হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার রোড আইল্যান্ডের ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে এক বন্দুকবাজের গুলিতে কমপক্ষে দুজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। যখন এই হামলার ঘটনা ঘটে, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফাইনাল পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। কালো পোশাক পরা সন্দেহভাজন হামলাকারীকে এখনও ধরা সম্ভব হয়নি।

হামলা ও তল্লাশি:

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার তিন ঘণ্টারও বেশি সময় পরও পুলিশ অফিসাররা ক্যাম্পাসগুলোতে তন্ন তন্ন করে তল্লাশি চালান। ডেপুটি পুলিশ প্রধান টিমোথি ও’হারা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি ছিল কালো পোশাক পরিহিত একজন পুরুষ। তাকে শেষবার হামলার মূল স্থান ইঞ্জিনিয়ারিং বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।

লকডাউন এবং সতর্কতা: মেয়র ব্রেট স্মাইলি এলাকায় ‘শেল্টার-ইন-প্লেস’ জারি করেছেন এবং ক্যাম্পাসের কাছাকাছি বসবাসকারী লোকদের বাড়ির ভিতরে থাকার অনুরোধ করেছেন। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে অ্যালার্ট জারি করে বলা হয়েছে যে ক্যাম্পাস লকডাউন থাকবে এবং সকল সদস্যকে দরজা বন্ধ রেখে সুরক্ষিত থাকতে হবে।

আহতদের অবস্থা: মেয়র স্মাইলি নিশ্চিত করেছেন যে গুলিতে আহত আটজনের অবস্থা গুরুতর হলেও বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তারা চিকিৎসাধীন আছেন। আহতরা শিক্ষার্থী কিনা, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চাননি।

প্রেসিডেন্টের ক্ষোভ ও এফবিআই-এর হস্তক্ষেপ:

শনিবারের এই গুলি চালানোর ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল এবং পদার্থবিদ্যা বিভাগের ভবন ‘বারুস অ্যান্ড হলি’-তে। হামলা চালানোর সময় সেখানেই ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইনের পরীক্ষা চলছিল।

ঘটনা প্রসঙ্গে ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যেই তাঁর মতামত প্রকাশ করেছেন। এফবিআই ডিরেক্টর কাশ প্যাটেল, এক্স-এ (পূর্বে টুইটার) একটি পোস্টে জানিয়েছেন যে সংস্থার কর্মীরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি জড়িত সকলের জন্য প্রার্থনার অনুরোধ জানান।

বন্দুকবাজ ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই পড়ুয়া ছিলেন কিনা, সে বিষয়ে এখনও কোনো নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।