দিল্লি-এনসিআর-এ বায়ুর মান ‘সিভিয়ার প্লাস’, AQI ৪৯১ ছুঁতেই জারি হলো GRAP-এর সবচেয়ে কঠোর স্টেজ–IV,

রবিবার ভোরে ঘন বিষাক্ত ধোঁয়ার (Toxic Smog) চাদরে ঢেকে গেল দিল্লি-এনসিআর (Delhi-NCR)। দৃশ্যমানতা ভয়ানকভাবে কমে এসেছে, এবং বায়ু গুণমান সূচক (AQI) এ বছরের সবচেয়ে বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছেছে। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (CPCB)-এর তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৬টায় AQI ৪৯১ ছুঁয়েছে, যা সরাসরি ‘সিভিয়ার প্লাস’ (Severe Plus) ক্যাটেগরিতে পড়ে—এটি স্বাস্থ্যগত দিক থেকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা।

শনিবার এই সূচক ছিল ৪৩১। মাত্র একদিনের ব্যবধানে এতটা সূচক বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবেশবিদরা উদ্বিগ্ন। দিল্লি, গুরুগ্রাম, নয়ডা, গাজিয়াবাদ ও ফরিদাবাদ—সব জায়গাতেই ভোর থেকে ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

GRAP-এর স্টেজ–IV চালু:

পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় বায়ু গুণমান ব্যবস্থাপনা কমিশন (CAQM) গোটা এনসিআরজুড়ে অবিলম্বে গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান (GRAP)-এর স্টেজ–IV চালু করেছে। AQI ৪৫০ ছাড়ালেই এই স্তর কার্যকর হয়, যা দূষণ মোকাবিলার সবচেয়ে কঠোর ধাপ।

GRAP–IV অনুযায়ী যে কঠোর বিধিনিষেধ জারি হলো:

নির্মাণকাজ ও খনি সম্পূর্ণ বন্ধ: দিল্লি-এনসিআর জুড়ে সব ধরনের নির্মাণ ও ভাঙার কাজ (construction and demolition) পুরোপুরি নিষিদ্ধ। পাশাপাশি স্টোন ক্রাশার, খনন কাজ ও সংশ্লিষ্ট সমস্ত কার্যকলাপ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যানবাহনে কড়া নিয়ন্ত্রণ: দিল্লি ও আশপাশের গুরুগ্রাম, ফরিদাবাদ, গাজিয়াবাদ ও গৌতম বুদ্ধ নগর জেলাগুলিতে BS-III পেট্রোল এবং BS-IV ডিজেল চারচাকার গাড়ি চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।

ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা: শুধুমাত্র জরুরি পণ্য বা পরিষেবার ট্রাক ছাড়া অন্যান্য ট্রাক দিল্লি প্রবেশ করতে পারবে না। তবে LNG, CNG, ইলেকট্রিক ও BS-VI ডিজেল ট্রাক চলতে পারবে।

অফিসে ৫০ শতাংশ হাজিরা: যানজট ও দূষণ কমাতে সরকারি ও বেসরকারি সব অফিসকে ৫০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাকি কর্মীরা ওয়ার্ক ফ্রম হোম (WFH) করবেন।

স্কুলে হাইব্রিড ক্লাস: শিশুদের স্বাস্থ্যরক্ষায় ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত সমস্ত স্কুলকে হাইব্রিড মোডে (অনলাইন ও অফলাইনের মিশ্র পদ্ধতি) ক্লাস চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্লাস VI থেকে XI পর্যন্ত সরাসরি ক্লাস স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাজ্য সরকার ও দিল্লি সরকারের হাতে থাকছে।

এই কঠোর পদক্ষেপগুলো পরিবেশ সুরক্ষা আইন, ১৯৮৬-এর ধারা ৫ অনুযায়ী জারি করা হয়েছে, যার লক্ষ্য দ্রুত বায়ুর মান উন্নত করা।