“অষ্টম বেতন কমিশনের প্রস্তুতি শুরু!”- বাড়তি ৩০,০০০ কোটি টাকা সামলাতে রেলের বিশেষ কৌশল

ভারতীয় রেলওয়ে আগামী দুই বছরের জন্য একটি সুপরিকল্পিত আর্থিক কৌশল নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এর মূল কারণ হল—২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশগুলি কার্যকর হলে কর্মচারীদের বেতন এবং পেনশনের উপর যে বিশাল আর্থিক প্রভাব পড়বে, তা সামাল দেওয়া। রেলওয়ের লক্ষ্য হল, বেতন বৃদ্ধি সত্ত্বেও তার আর্থিক সুস্থতা বজায় রাখা এবং ব্যয়ের সঙ্গে রাজস্বের ভারসাম্য নিশ্চিত করা।
অষ্টম বেতন কমিশন: বাড়তি ব্যয়ের বোঝা
অষ্টম বেতন কমিশন ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে গঠিত হয়েছে এবং ১৮ মাসের মধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিতে হবে। বর্তমান সপ্তম বেতন কমিশনের মেয়াদ ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে শেষ হচ্ছে।
-
পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা: সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের পর রেল কর্মীদের বেতন ১৪ থেকে ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল, যার ফলে রেলওয়ের উপর প্রায় ২২,০০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত বোঝা পড়েছিল।
-
বর্তমান অনুমান: অনুমান করা হচ্ছে যে অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের ফলে রেলওয়ের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেতে পারে।
ব্যয় হ্রাস এবং দক্ষতার উপর জোর
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন অনুসারে, এই সম্ভাব্য আর্থিক চাপ মোকাবিলায় রেলওয়ে এখন থেকেই রক্ষণাবেক্ষণ, ক্রয় এবং জ্বালানি খাতে ব্যয় হ্রাস করার পরিকল্পনা দ্রুত করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে ২০২৭-২৮ সালে বেতন বৃদ্ধির ধাক্কা সামলাতে আগামী দুই বছরে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের উপর বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে।
-
জ্বালানি সাশ্রয়: রেলওয়ে বিশ্বাস করে যে নেটওয়ার্কের সম্পূর্ণ বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকার জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব হবে।
-
পরিচালন অনুপাত (Operating Ratio) লক্ষ্য: রেলওয়ে ২০২৪-২৫ সালের ৯৮.৯০ শতাংশ পরিচালন অনুপাত থেকে কমিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য তা ৯৮.৪৩ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
আয় বৃদ্ধি এবং ঋণ নিয়ন্ত্রণ
রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে বর্তমানে নতুন স্বল্প-মেয়াদী ঋণ সংগ্রহের কোনও পরিকল্পনা নেই। বরং অভ্যন্তরীণ সম্পদ এবং আয় বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
-
মালবাহী আয় বৃদ্ধি: যখন উচ্চ বেতনের বোঝা আসবে, তখন রেলওয়ের মালবাহী আয় বার্ষিক প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
-
কর্মচারী এবং পেনশন ব্যয়: ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য কর্মীদের ব্যয় ১.২৮ লক্ষ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে (যা গত বছরের ১.১৭ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বেশি) এবং পেনশন তহবিলের জন্য ৬৮,৬০২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর: কর্মীদের দাবি
সপ্তম বেতন কমিশন ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বাস্তবায়ন করেছিল। এখন ট্রেড ইউনিয়নগুলি ২.৮৬ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর দাবি করছে, যা বাস্তবায়িত হলে রেলওয়ের মজুরি বিল ২২ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি করতে পারে। তবে রেল কর্মকর্তারা আত্মবিশ্বাসী যে অভ্যন্তরীণ সম্পদ, সঞ্চয় এবং ক্রমবর্ধমান আয়ের সাহায্যে রেলওয়ে এই অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা সামলাতে সক্ষম হবে।