শিল্প-উন্নয়নে রাজ্যের ‘মহাযজ্ঞ’, ১৮ ডিসেম্বর ধনধান্যে ‘বিজনেস কনক্লেভ’, রোডম্যাপ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগের গতি বাড়াতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথ মজবুত করতে ১৮ ডিসেম্বর ধনধান্য স্টেডিয়ামে এক বড় ‘বিজনেস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কনক্লেভ’-এর আয়োজন করতে চলেছে রাজ্য সরকার। এই গুরুত্বপূর্ণ কনক্লেভের সূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের শিল্প সম্ভাবনা, বিনিয়োগের সুযোগ এবং ভবিষ্যতের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ এখানে দেশ-বিদেশের শিল্পপতিদের সামনে তুলে ধরা হবে।

এই কনক্লেভের চূড়ান্ত প্রস্তুতি বৈঠক গত শুক্রবার নবান্নে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ এবং মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অমিত মিত্র-সহ প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। নবান্ন সূত্রে খবর, কনক্লেভে রাজ্যের প্রথম সারির বিশিষ্ট শিল্পপতিরা উপস্থিত থাকবেন।

আটটি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র: AI, সেমিকন্ডাক্টর ও রত্ন শিল্পে নজর

নবান্ন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শে এই কনক্লেভে শিল্পের আটটি ক্ষেত্রকে বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই ক্ষেত্রগুলি হল: ইস্পাত, মণি-রত্ন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি (IT), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সেমিকন্ডাক্টর, পর্যটন এবং বস্ত্র শিল্প।

এছাড়াও রাজ্য সরকার চর্মশিল্প, ওষুধ এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত শিল্পগুলিতেও গুরুত্ব দিচ্ছে। এই আটটি অগ্রাধিকার ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত দপ্তরগুলিকে প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কনক্লেভে অতিথিদের সামনে বিস্তারিত প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রতিটি ক্ষেত্রের গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরার জন্য।

কনক্লেভে কী থাকছে?

দু’টি পর্যায়ে এই কনক্লেভ অনুষ্ঠিত হবে।

প্রথম পর্যায়: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের শিল্প মানচিত্রের অগ্রগতি, রাজ্যে হওয়া বিনিয়োগ এবং শিল্পস্থাপনে সরকারের সহযোগিতার বিষয়গুলি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করবেন। এছাড়াও হর্ষ নেওটিয়া, সঞ্জীব গোয়েঙ্কা, রুদ্র চট্টোপাধ্যায়, সঞ্জয় বুধিয়া, উমেশ চৌধুরিসহ একাধিক বিশিষ্ট শিল্পপতি বাংলায় শিল্প স্থাপনের অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনা নিয়ে নিজেদের বক্তব্য রাখবেন।

দ্বিতীয় পর্যায়: এই পর্যায়ে বিশ্বব্যাঙ্কের (World Bank) সহযোগিতায় রাজ্যে চলমান প্রকল্পগুলি নিয়ে একটি প্লেনারি সেশন থাকবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল— কলকাতা ও শহরতলিতে জলপথ পরিবহণের আধুনিকীকরণ, সুন্দরবনের নদী-খাল সংস্কার এবং দ্বীপবাসীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং দামোদর অববাহিকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ পরিষেবা উন্নয়ন।

সব মিলিয়ে, মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ধনধান্য স্টেডিয়ামের এই বিজনেস কনক্লেভকে রাজ্যের শিল্প ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছে নবান্ন।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01