পাক গুপ্তচর সন্দেহে দেশের উত্তর-পূর্বে প্রাক্তন বায়ুসেনা অফিসার গ্রেফতার! তোলপাড় অরুণাচল থেকে অসম

পাকিস্তানের সঙ্গে যোগসাজশ এবং সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগে দেশের উত্তর-পূর্ব এলাকা থেকে এক প্রাক্তন ভারতীয় বায়ুসেনা অফিসার-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অসমের শিলচর ও অরুণাচল প্রদেশ থেকে এই তিনজনের গ্রেফতারির ঘটনায় জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
আসামে পাক-ভিত্তিক সংস্থাকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগে প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মকর্তা গ্রেফতার
অসমের পুলিশ ৬৪ বছর বয়সী বায়ুসেনার অবসরপ্রাপ্ত অফিসার কুলেন্দ্র শর্মাকে গ্রেফতার করেছে। গত কয়েক মাস ধরেই তাঁর গতিবিধির ওপর নজর রাখা হয়েছিল। সন্দেহজনক কার্যকলাপের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। শর্মার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, ভারতের বিরুদ্ধে দাঙ্গা ও ষড়যন্ত্র, অপরাধের প্রমাণ লোপাট এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
অসমের পুলিশ জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয় এবং কুলেন্দ্র শর্মা বেশ কিছুদিন ধরে নজরদারিতে ছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার রাতে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়।
ভারতীয় বায়ুসেনা থেকে অবসর গ্রহণের পর কুলেন্দ্র শর্মা তেজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক্স বিভাগে কাজ করতেন। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এই সময়ে তিনি গোপনে পাকিস্তানি গুপ্তচরবৃত্তি নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন এবং স্পর্শকাতর তথ্য পাচার করেছেন। তল্লাশির সময় পুলিশ শর্মার ল্যাপটপ এবং মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে। সোনিতপুরের ডেপুটি পুলিশ সুপার হরিচরণ ভূমিজ জানিয়েছেন, ডিজিটাল বিশ্লেষণে এমন উপাদান পাওয়া গেছে যা গুরুতর সন্দেহ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ভারত সম্পর্কিত কিছু তথ্য পেয়েছি যা সন্দেহভাজন পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’
অরুণাচলে পাক-যোগে ধৃত কাশ্মীরের তিন বাসিন্দা
এদিকে, অরুণাচল প্রদেশেও পাকিস্তানের সঙ্গে সন্দেহজনক যোগসাজশের অভিযোগে কাশ্মীরের দুই বাসিন্দাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২৬ বছরের হিলাল আহমেদকে অরুণাচলের পশ্চিম শিয়াং থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, সে পাকিস্তানি হ্যান্ডেলারদের কাছে সংবেদনশীল তথ্য পাচার করেছে।
এই সপ্তাহে এই নিয়ে মোট তিনজনকে পাক-যোগ ও তথ্য পাচারের সন্দেহে অরুণাচল প্রদেশ থেকে গ্রেফতার করা হলো। এর আগে, ২২ বছরের নাজির আহমেদ মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছিল সেনার ট্রুপের গতিবিধির তথ্য পাকিস্তানে পাচার করার অভিযোগে। নাজিরের বাড়ি জম্মু ও কাশ্মীরের কুপওয়ারায়। এরপর দ্বিতীয় অভিযুক্ত, সাবির আহমেদ মীর, যিনিও কুপওয়ারার বাসিন্দা, তাঁকে অরুণাচল প্রদেশের রাজধানী ইটানগর থেকে গ্রেফতার করা হয়। জম্মু ও কাশ্মীর থেকে প্রায় ৩০০০ কিলোমিটার দূরে এই তিন কাশ্মীরি বাসিন্দার বসবাস এবং পাক-যোগ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। জেরার মুখে নাজির জানিয়েছে যে সে টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে পাকিস্তানি হ্যান্ডেলারদের কাছে কিছু তথ্য পাচার করেছে।