যুবভারতীর তাণ্ডব, ‘ভিআইপি কালচার’ বনাম সাধারণ দর্শক! তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ সুকান্ত-সজলের, বিতর্কে ‘মেসি অন মেস’

কষ্টের উপার্জনের টাকায় লিওনেল মেসিকে দেখার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন নিয়ে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভিড় করেছিলেন হাজার হাজার দর্শক। কিন্তু ভিআইপি সংস্কৃতির কারণে লক্ষ লক্ষ টাকার টিকিট কেটেও মেসিকে এক ঝলক দেখা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বিপুল সংখ্যক সাধারণ ফুটবলপ্রেমী। ফলস্বরূপ, মেসি মাঠ ছাড়তেই যুবভারতী কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ক্ষোভের আগুনে তছনছ হয় বাঙালির গর্বের স্টেডিয়াম—ভেঙে ফেলা হয় তোরণ, গ্যালারির চেয়ার এবং এমনকি গোলপোস্টেও চলে ভাঙচুর, আগুন লাগানোর চেষ্টা পর্যন্ত হয়েছে। এই চরম বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও রাস্তা থেকেই ফিরে যেতে হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডা। রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্য সরকারের অব্যবস্থাকে দায়ী করে সরব হয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব সুকান্ত মজুমদার, সজল ঘোষ এবং অমিত মালব্য। যদিও মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই মেসির কাছে ক্ষমা চেয়ে তদন্ত কমিটি তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন।
‘চোর আর চোরেদের বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ডরা ঘিরে রেখেছিল’
বিজেপি নেতা সজল ঘোষ তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে বলেছেন, “সাধারণ মানুষ হাজার হাজার টাকার টিকিট কিনেছেন। ন্যূনতম টিকিটের দাম প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা। একশো দিনের কর্মীদের সারা মাসের কামাই একটা টিকিটের দাম। সেখানে একদল চোর আর চোরেদের বয়ফ্রেন্ড, গার্লফ্রেন্ডরা মেসিকে ঘিরে রেখে দিল। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”
বঙ্গ বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এই চূড়ান্ত অবস্থার দায় তৃণমূলের ওপর চাপিয়েছেন। তিনি বলেন, “যারা বোতল ছুড়েছে, তারাও তৃণমূল। তারা অরূপ বিশ্বাসের লোক। আমার কাছে এমনই খবর আছে।” টিকিটের কালোবাজারি নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি পুরো পরিস্থিতিকে ‘মেস’ (Mess) বা বিশৃঙ্খলা আখ্যা দেন। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “বলা ভালো ‘মেসি অন মেস’ (Messi on Mess)। পুরোটাই করলো তৃণমূলের অসভ্য বর্বর নেতা-নেত্রীরা। এ ঘটনায় প্রমাণ হয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতেই জানে না।”
বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এই ঘটনাকে “তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আবেগের উপর সরাসরি আঘাত” এবং “প্রত্যেক ফুটবলপ্রেমীকে অপমান” বলে তোপ দেগেছেন।
অন্যদিকে, সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম এই ঘটনায় কটাক্ষ করে বলেছেন, “নবান্নে কিন্তু এখনো ভাঙ্গচুর হয়নি। কালীঘাটে এখনো ভাঙ্গচুর হয়নি। বাংলায় খেলা হোক, মেলা হোক, বইমেলা হোক, দুর্নীতি হবে না? বিশৃঙ্খলা হবে না? কালোবাজারি হবে না?”