‘জেল থেকে খুনের ষড়যন্ত্র’, ন্যাজাট-কাণ্ডে ধৃত ২; শাহজাহানের স্ত্রী-সহ ৮ অভিযুক্ত অধরা, মুখ খুললেন সাক্ষী ভোলানাথ ঘোষ

সন্দেশখালির একদা ‘ত্রাস’ জেলবন্দি শেখ শাহজাহান-মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ভোলানাথ ঘোষের গাড়ি দুর্ঘটনায় তাঁর ছেলে ও চালকের মৃত্যুর ঘটনায় ৩ দিনের মাথায় প্রথম গ্রেফতারি করল পুলিশ। সাক্ষী ভোলানাথকে খুনের পরিকল্পনার অভিযোগের তদন্তে নেমে পুলিশ দু’জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতার দুই অভিযুক্ত: ধৃতদের নাম:
রুহুল কুদ্দুস তরফদার (সন্দেশখালির সরবেড়িয়া থেকে গ্রেফতার)
সুশান্ত ওরফে উত্তম সরদার (দক্ষিণ ২৪ পরগনার পোলেরহাট থানা এলাকা থেকে পাকড়াও)
বসীরহাট মহকুমা আদালত ধৃত দু’জনকেই ৯ দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশের দাবি, অভিযোগপত্রে নাম না থাকা সত্ত্বেও ন্যাজাট-কাণ্ডে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে রুহুল কুদ্দুস এবং সুশান্ত সরদারের।
উত্তম সরদারের প্রসঙ্গ: ধৃত সুশান্ত সরদার একদা শাহজাহান ঘনিষ্ঠ এবং জমি দখল-হুমকির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া প্রাক্তন তৃণমূল নেতা উত্তম সরদারের ভাই। আদালতের নির্দেশে উত্তর ২৪ পরগনায় প্রবেশের অনুমতি না থাকায় উত্তম তখন থেকে পোলারহাটে থাকতে শুরু করেছিলেন।
সাক্ষীর অভিযোগ ও পুলিশের ভূমিকা: বুধবার ন্যাজাটের বাসন্তী হাইওয়েতে ভোলানাথের গাড়িতে ট্রাকের ধাক্কায় তাঁর ছোট ছেলে সত্যজিৎ ঘোষ এবং গাড়ির চালক শাহনুর আলম ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ভোলানাথ প্রাণে বাঁচলেও গুরুতর জখম হন।
খুনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: ভোলানাথ ঘোষ তাঁর অভিযোগপত্রে সস্ত্রীক শাহজাহান-সহ আটজনের নাম উল্লেখ করেছেন এবং স্পষ্ট জানিয়েছেন, জেলে বসেই শাহজাহান তাঁর স্ত্রীকে ফোন করে তাঁকে খুনের ষড়যন্ত্র করেছিলেন।
অধরা প্রধান অভিযুক্তরা: অভিযোগপত্রে নাম থাকা মূল অভিযুক্ত—ঘাতক ট্রাকের চালক আবদুল আলিম মোল্লা এবং তাঁর সহযোগী নজরুল মোল্লা—এখনও পলাতক।
নেপথ্যের অভিযুক্ত: অভিযোগপত্রে নাম থাকা জেলবন্দি শাহজাহান, তাঁর স্ত্রী তসলিমা বিবি, এবং শাহজাহান ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা মোসলেম শেখ, গফফর শেখ-দের আটক বা জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনও পুলিশ এখনও মনে করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাক্ষী ভোলানাথ ঘোষের বক্তব্য: দুই অভিযুক্তের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে ভোলানাথ ঘোষ বলেন, “পুলিশ প্রশাসনের উপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। যদি ধৃতরা সত্যিই দোষী হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই শাস্তি পাক। এখানে বড় একটা র্যাকেট চলছে। আমি আশা করছি, পুলিশ নিশ্চয় আমার ছেলের মৃত্যুর ঘটনার সত্যতা উদঘাটন করবে। মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশ মন্ত্রীর কাছে আমার একটাই আবেদন, ছেলের মৃত্যুর যেন সঠিক বিচার পাই। শাহজাহান ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।”