‘আমার জীবনটাই নষ্ট হয়ে গেল’, ব্রিগেডে ‘ভেজ প্যাটি’ বিতর্কে মারধরের শিকার রিয়াজুল, জামিন পেলেন অভিযুক্তরা

গত ৭ ডিসেম্বর কলকাতার ব্রিগেডে ‘ভেজে চিকেন প্যাটি’ বিক্রির অভিযোগে মারধরের শিকার হওয়া আরামবাগের পূর্ব কেশবপুরের বাসিন্দা শেখ রিয়াজুল আতঙ্কে কলকাতা ছেড়েছেন। কলকাতা ময়দান ও ইডেনের কাছে প্যাটি বিক্রি করে তাঁর সংসার চলত।

রিয়াজুলকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ৭ ডিসেম্বর ব্রিগেডে ‘ভেজ প্যাটি’-র নাম করে ‘চিকেন প্যাটি’ বিক্রি করছিলেন কিনা। বুধবারের ঘটনার পরে ভীত, শঙ্কিত রিয়াজুল এখন উত্তর দিলেন তাঁর গ্রামের বাড়ির উঠোনে বসে।

রিয়াজুলের ব্যাখ্যা: রিয়াজুলের কথায়, “আমি ২২ বছর ধরে ব্যবসা করছি। আমার ডালায় ভেজ এবং চিকেন প্যাটি দুটোই থাকে। ডালার একটা ধারে থাকে ভেজ প্যাটি এবং আরেকটি অংশে থাকে চিকেন প্যাটি। আমাকে এসে জিজ্ঞাসা করা হলো— কী প্যাটি বিক্রি করছেন? আমি বললাম, ভেজ প্যাটি আর চিকেন প্যাটি আছে। আমি কারও ধর্মে আঘাত করতে চাইনি। আগে অনেক পুজো প্যান্ডেলের কাছেও প্যাটি বিক্রি করেছি।”

সেদিনের ঘটনার পরেই তল্পিতল্পা গুটিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। কলকাতায় ফেরা নিয়ে তিনি বলেন, “এখন আর ফিরব না। একটা ভয় ধরে গিয়েছে। আবার যদি কোথাও মারধর খেতে হয়। তবে, এটাই আমার ব্যবসা। আমার জীবনটাই নষ্ট হয়ে গেল।”

অভিযুক্তদের জামিন ও বিজেপির সংবর্ধনা: রিয়াজুলকে হেনস্থা ও মারধরের ঘটনায় সৌমিক হালদার, স্বর্ণেন্দু চক্রবর্তী এবং তরুণ ভট্টাচার্য নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এই তিনজনই বৃহস্পতিবার জামিন পেয়েছেন।

রিয়াজুলের আক্ষেপ: অভিযুক্তদের জামিনের খবর বাড়িতে বসেই দেখেছেন রিয়াজুল। তাঁর বক্তব্য, “তাঁরা ছাড়া পেয়েছেন, ভালোই হয়েছে। আমি এটুকুই বলতে চাই। আমি কোনও ঝামেলায় জড়াতে চাই না। কিন্তু আমার ব্যবসাটা নষ্ট হয়ে গেল।”

পাল্টা অভিযোগ: রিয়াজুলের নামেও পাল্টা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “কেস করলেও আমার কিছু বলার নেই। আমার যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গিয়েছে।”

শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য: ব্রিগেডের ঘটনায় পাল্টা ব্যাখ্যা দিয়েছে বিজেপি। এই ঘটনায় যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, শুক্রবার তাঁদের দলীয় কার্যালয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে তুষ্টিকরণের রাজনীতি চলছে।” তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

পরিবারের উদ্বেগ: গোটা ঘটনায় চিন্তিত রিয়াজুলের পরিবার। তাঁর বাবা জয়নাল আবেদিনের কথায়, “ঘটনার দিন ওকে বলতে পারত ওখান থেকে চলে যেতে। তা না করে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে।… ছেলে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। যাঁদের ধরল, তাঁরা আবার জামিন পেয়ে গেল। আবার উল্টে কেসও করল। ছেলে যাতে সুস্থভাবে কাজ করতে পারে, সেটা এখন দেখা হোক।”