কলকাতায় মেসি সফর ‘গ্রেটেস্ট অফ অল ক্যাওস’! যুবভারতীতে তাণ্ডব, তদন্তের অজুহাতে নীরব ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস

বিশ্বকাপজয়ী তারকা লিওনেল মেসির কলকাতা সফর (Messi in Kolkata) স্মরণীয় হওয়ার বদলে ‘গ্রেটেস্ট অফ অল ক্যাওস’ হিসেবে ইতিহাসে থেকে গেল। শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে (Yuba Bharati Stadium) চরম বিশৃঙ্খলা, ভাঙচুর এবং অব্যবস্থার কলঙ্ক লেপ্টে গেল এই আয়োজনের গায়ে।
সাড়ে ১১টা নাগাদ যখন লিওনেল মেসি, লুই সুয়ারেজ ও রদ্রিগো ডি-পল সাদা অডি কিউ সেভেনে চড়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন, তখন থেকেই তাঁদের ঘিরে দেখা যায় বিশাল ভিড়। অভিযোগ উঠেছে, সেই ভিড়ে আয়োজকদের দল, নিরাপত্তা রক্ষী, পি-আর টিমের সদস্য ছাড়াও বহু বহিরাগত ছিল, যাঁদের গ্যালারি থেকে চেনা যায়নি। ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর নিরাপত্তা রক্ষীদেরও ওই ভিড়ের মধ্যে দেখা যায়, যা নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন দর্শকরা। কিছু ‘ফড়ে’কেও ভিড়ের মধ্যে দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ।
দর্শকদের ক্ষোভ ও ভাঙচুর: দর্শকদের অভিযোগ, এই ভিড় এবং অব্যবস্থার কারণেই তাঁরা মেসিকে ঠিকমতো দেখতে পাননি। ক্ষুব্ধ হয়ে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে কিছু লোক মাঠে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। পুরো স্টেডিয়াম তছনছ হয়ে যায়।
প্রশাসনের পদক্ষেপ: প্রশাসন এই চরম অব্যবস্থার দায় প্রাথমিক তদন্তের পর আয়োজক শতদ্রু দত্তের উপর চাপিয়েছে এবং তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। অন্যদিকে, দর্শকদের একটি বড় অংশ অব্যবস্থার জন্য ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে দোষী ঠাওরেছেন।
অরূপ বিশ্বাসের নীরবতা: গোটা ঘটনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা যখন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে প্রশ্ন করেন, তখন তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাইলেন না। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “তদন্ত চলা অবধি মন্তব্য করব না।”
মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমা ও ডিজি-র বক্তব্য: গোটা ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে মেসির কাছে ক্ষমা চেয়ে ‘মিসম্যানেজমেন্টে’র কথা স্বীকার করেন এবং তদন্তের ঘোষণা করেন। বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার জানান, প্রাথমিক তদন্তে টিকিট বিক্রি ও স্টেডিয়ামের সক্ষমতার মধ্যে বড় ফারাক ছিল বলে উঠে এসেছে। তিনি ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনা করারও ইঙ্গিত দেন।
দিনের শেষে, মেসির মূর্তি উদ্বোধন, ২০ মিনিটের উপস্থিতি আর বিশৃঙ্খলার কলঙ্ক ছাড়া কলকাতার প্রাপ্তি আর কী? প্রস্থানে রয়ে গেল প্রশ্ন, ক্ষোভ আর তদন্তের প্রতিশ্রুতি। এই শনিবার ফুটবলের ইতিহাসে কলকাতার ব্যর্থ আয়োজনের দিন হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকল। মেসি চলে গেলেন হায়দ্রাবাদ, দিল্লির উদ্দেশ্যে।