‘মিনি-জামতারা’ হলো মথুরার গোবর্ধন! রাতারাতি সাইবার জালিয়াতির কেন্দ্রে পরিণত পবিত্র ভূমি, ৪০ জন আটক

যেখানে শ্রীকৃষ্ণ বাস করেন বলে বিশ্বাস করা হয়, সেই পবিত্র ভূমি মথুরার গোবর্ধন গত দুই দশক ধরে পরিণত হয়েছে কুখ্যাত প্রতারণার কেন্দ্রবিন্দুতে। দেবসেরাস, মোডসেরাস, মান্দৌরা এবং নাগলা মেও গ্রামের শত শত যুবক দ্রুত ধনী হওয়ার আশায় প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে মথুরা পুলিশ এই অঞ্চলের জালিয়াত চক্রের প্রধান কেন্দ্র দেবসেরাস গ্রামে এক বিশাল অভিযান চালায়, যা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

ভোর হওয়ার আগেই শত শত পুলিশ এবং আধিকারিকরা নীরবে খামারের পথ ব্যবহার করে গ্রামটি ঘিরে ফেলেন। এই গোপন অভিযানে প্রায় ৪২ জন প্রতারককে আটক করা হয়, তবে প্রায় ১২০ জন অভিযুক্ত মাঠের মধ্য দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

২০ বছরের পুরনো ‘তাতলু গ্যাং’

গোবর্ধনের এই জালিয়াত চক্রটি ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয়, যা স্থানীয়ভাবে ‘তাতলু গ্যাং’ নামে পরিচিত। শুরুতে, তারা সস্তা সোনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লোকজনকে প্রলুব্ধ করত এবং পরে তাদের জিম্মি করে ডাকাতি করত। সময়ের সাথে সাথে, তারা তাদের কৌশল পরিবর্তন করে এবং গত এক দশকে এটি একটি সংগঠিত সাইবার জালিয়াতি নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে।

এখন এই চক্র ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম আইডি হ্যাক করে, ব্যাংকের ওটিপি এবং অন্যান্য অ্যাকাউন্ট বিবরণ সংগ্রহ করে হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে।

দেবসেরাস গ্রাম: জালিয়াতির কেন্দ্রস্থল

মথুরার গোবর্ধনের দেবসেরাস গ্রামকে এই পুরো জালিয়াতির কেন্দ্রস্থল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, এই গ্রামের প্রায় সত্তর শতাংশ বাসিন্দা কোনো না কোনোভাবে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। এদের মধ্যে একটি বড় অংশই মেও সম্প্রদায়ের। এই গ্রাম থেকে পরিচালিত গ্যাং সদস্যরা প্রায়শই অন্যান্য রাজ্যে পালিয়ে যায়, বিশেষত যখন পুলিশের তৎপরতা বাড়ে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন গ্রামবাসী জানান, গ্রামে বেকারত্বের হার বেশি হওয়ায় তরুণরা দ্রুত অর্থ উপার্জনের জন্য এই প্রতারণার পথ বেছে নিয়েছে। তবে গত চার-পাঁচ বছরে সাইবার জালিয়াতি তাদের প্রধান কৌশল হয়ে উঠেছে।

পুলিশের মেগা অভিযান এবং চ্যালেঞ্জ

বৃহস্পতিবারের অভিযানটি ছিল মথুরায় এই ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। এই অভিযানে চারজন আইপিএস অফিসার, চারজন সিও, ২৬ জন ইন্সপেক্টর এবং প্রায় ৪০০ পুলিশ ও পিএসি কর্মী অংশ নেন। অভিযুক্তদের সতর্ক হওয়ার সুযোগ না দিতেই খামারের পথ ধরে গোপনে গ্রামে প্রবেশ করে পুলিশ।

অভিযানের সময় আটক ৪০ জনকে জেরা করা হচ্ছে। তবে পুলিশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, এই গ্রামটি প্রতিবেশী রাজ্য হরিয়ানা এবং রাজস্থানের সীমান্ত থেকে মাত্র এক মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত। ফলে, ১২০ জন অভিযুক্ত সহজেই রাজ্য সীমান্ত অতিক্রম করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

দেবসেরাস এবং এর আশেপাশের গ্রামগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এই সাইবার জালিয়াতি নেটওয়ার্কের কারণে এলাকাটিকে এখন অনেকে “মিনি-জামতারা” নামে ডাকছেন।