‘সন্তানের মৃত্যু কেউ ভুলতে পারে না’, বড় মেয়ের শোক সামলে ওঠার কঠিন লড়াই নিয়ে মুখ খুললেন মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়

বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়, যিনি ৭৭ বছর বয়সেও তাঁর মায়াবী হাসি এবং প্রাণোচ্ছ্বল ব্যক্তিত্ব ধরে রেখেছেন, তাঁর সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে সন্তান হারানোর গভীর যন্ত্রণা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বড় মেয়ে পায়েল সিনহার (তাও) মৃত্যু এবং সেই শোক সামলে ওঠার কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরেন।
সন্তান হারানোর হাহাকার:
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে মাত্র ৪৫ বছর বয়সে মারা যান মৌসুমীর বড় মেয়ে পায়েল। তরুণ মজুমদারের ‘বালিকা বধূ’ বলেন, মেয়ের মৃত্যুশোক ভোলার নয়:
“বাচ্চার চিতা জ্বলছে বা তাকে কবর দেওয়া হচ্ছে, সেটা কেউ ভুলতে পারে না। বাবা মারা গেছে, সেই ঘটনা বিরল না, তবে সন্তানের মৃ্ত্যু…।”
মৌসুমী জানান, তিনি ছোট মেয়ে মেঘা এবং স্বামীর কথা ভেবে নিজেকে স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করেন। তাঁর স্বামী মাঝেমধ্যেই গভীর রাতে পায়েলের নাম ধরে চিৎকার করে ওঠেন।
জামাইয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও অভিযোগ:
পায়েলের স্বামী ডিকি সিনহা-র বিরুদ্ধে মৌসুমীর মনে একরাশ ক্ষোভ জমা রয়েছে। অভিনেত্রী জানান, মেয়ের শেষকৃত্যের সময়ও তাঁকে চরম হেনস্থা সইতে হয়েছে:
মর্গে দেখার অভিজ্ঞতা: “আমার মেয়েকে হাসপাতালের মর্গে দেখতে হয়েছিল। হাসপাতালের বিল মেটানো হয়নি। তাই লাশ ছাড়েনি। এই সব ননসেন্স আমাকে সইতে হয়েছে।”
আইনি লড়াই: মৌসুমী বলেন, এই সব চর্চা ও হেনস্থা সইতে হয়েছে এবং একসময় তাঁকে আদালতের দ্বারস্থও হতে হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ছোটবেলা থেকেই পায়েল জুভেনাইল ডায়াবিটিসে আক্রান্ত ছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ২০১৮ সাল থেকে প্রায় কোমায় চলে গিয়েছিলেন। ২০১৮ সালে পায়েলের স্বামী ডিকি সিনহা স্ত্রীকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
আদালতে কাস্টেডি এবং শেষকৃত্যের বিতর্ক:
পায়েলের মৃত্যুর পর তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে মৌসুমীর উপর অভিযোগ উঠেছিল। ডিকির সঙ্গে মৌসুমীর সম্পর্ক ভালো ছিল না। একসময় তিনি মেয়ের কাস্টেডি চেয়ে আদালতেও গিয়েছিলেন।
পায়েলের মৃত্যুর পরও ডিকি সিনহা মন্তব্য করেছিলেন যে, মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় তাঁর মেয়েকে শেষবারের জন্য দেখতে আসেননি। যদিও শেষকৃত্যের সময় পায়েলের বাবা (মৌসুমীর স্বামী) এবং তাঁর বোন মেঘা হাজির ছিলেন।
মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় জানান, তিনি সর্বশক্তিমানের উপর আস্থা রাখেন এবং বিশ্বাস করেন একদিন এই অন্যায়ের সুবিচার পাবেন। তবে সন্তান হারানোর এই শোক তাঁকে আমৃত্যু বইতে হবে।