লাহোরে সংস্কৃতের পুনরাবিষ্কার, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে ‘মহাভারত’ পড়াচ্ছেন অধ্যাপক শাহিদ রশিদ

পাকিস্তানের অন্দরে, লাহোর শহরের বুকে অবস্থিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে এবার সংস্কৃত শ্লোক সহ হিন্দু মহাকাব্য ‘মহাভারত’-এর বিভিন্ন অংশ নিয়ে পড়াশোনা চলছে। ‘দ্য ট্রিবিউন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশভাগের পর পাকিস্তানে এমন উদ্যোগ প্রথম। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের কেন্দ্রে রয়েছেন অধ্যাপক শাহিদ রশিদ, যিনি পেশায় ইঞ্জিনিয়ার থেকে সোশিওলজির অধ্যাপক হয়ে উঠেছেন।
উদ্যোগ ও কোর্স:
অধ্যাপক রশিদের এই উদ্যোগটি শুরু হয়েছিল প্রথমে একটি ওয়ার্কশপ হিসেবে। এরপর তা লাহোর ইউনিভার্সিটি অফ ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস (LUMS)-এ একটি পূর্ণাঙ্গ কোর্স হিসাবে উঠে আসে।
পাঠ্যক্রম: কোর্সে ‘মহাভারত’-এর বিভিন্ন অংশ, সংস্কৃত শ্লোক এবং জনপ্রিয় টিভি সিরিজের ‘হ্যায় কথা সংগ্রাম কি’র উর্দু অনুবাদ পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
পরিচিতি: অনেকে এই ঘটনাকে ‘লাহোরে সংস্কৃতের রেনেসাঁ’ বা সংস্কৃতের পুনরাবিষ্কার হিসাবে বর্ণনা করছেন।
অধ্যাপক রশিদ বর্তমানে লাহোরের ‘ফরমান ক্রিস্টিয়ান কলেজ’-এ সোশিওলজি পড়ান। তাঁর উদ্যোগেই LUMS-এর গুরমানি সেন্টারে এই নয়া অধ্যায় শুরু হয়েছে।
অধ্যাপকের বার্তা: ‘এটি আমাদেরও ভাষা’
অধ্যাপক শাহিদ রশিদ তাঁর এই উদ্যোগের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন:
“কেন আমরা এটি শিখব না? এটি এমন একটি ভাষা যা এই সমগ্র অঞ্চলকে আবদ্ধ করে। পাণিনির গ্রাম এখানে ছিল। সিন্ধু উপত্যকার সময় এখানে অনেক কিছু লেখা হয়েছিল। আমাদের এটিকে গ্রহণ করতে হবে। এটি আমাদেরও… এটি কোনও একটি একটি ধর্মের সাথে আবদ্ধ নয়।”
রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিখ্যাত সংস্কৃত পণ্ডিত ও ব্যাকরণবিদ পাণিনির জন্মস্থান ছিল তৎকালীন গান্ধারে, যা বর্তমানে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় অবস্থিত।
LUMS-এর গুরমানি সেন্টারের পরিচালক ডঃ আলি উসমান কাসমি জোর দিয়ে বলেছেন যে পাকিস্তানের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃত নথির বিশাল সংগ্রহ থাকলেও, কয়েক দশক ধরে শিক্ষাবিদদের দ্বারা তা প্রায় অস্পৃশ্য ছিল। এই কোর্স সেই বন্ধ দুয়ার খুলে দিল।