‘ঘৃণার সার্কাসের রিংমাস্টার’, চিকেন প্যাটিস কাণ্ডে ধৃতদের সংবর্ধনা দেওয়ায় শুভেন্দুকে সরাসরি আক্রমণ তৃণমূলের

গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে ‘চিকেন প্যাটিস’ বিক্রেতাদের মারধর করার অভিযোগে ধৃতদের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মালা পরিয়ে সংবর্ধনা জানানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেনজির সংঘাতে জড়াল রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবির। এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সরাসরি শুভেন্দুকে ‘ঘৃণার সার্কাসের রিংমাস্টার’ বলে আক্রমণ করেছে।
তৃণমূলের মারাত্মক অভিযোগ:
শাসক দলের অফিসিয়াল এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে করা একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তদের সংবর্ধনা দিয়ে বিজেপি প্রমাণ করল তারা গণতন্ত্রকে বিসর্জন দিয়েছে এবং ‘গুন্ডাতন্ত্র’কেই দলের একমাত্র চালিকাশক্তি হিসেবে বেছে নিয়েছে। তৃণমূলের মতে, এই কাজ শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক সীমা অতিক্রম করা নয়, বরং এর মাধ্যমে বিজেপির ‘আসল মুখোশটা’ জনসমক্ষে খসে পড়েছে।
তৃণমূলের অভিযোগ, যারা গরিব হকারদের গায়ে হাত তোলে, তাদের সম্মানিত করে বিজেপি প্রমাণ করল তাদের দলের ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে সন্ত্রাস, নীতিপুলিশি এবং রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীরাজের ওপর। শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে শাসকদল বলেছে, “শুভেন্দু যখন অভিযুক্তদের সংবর্ধনা দিচ্ছেন, তখন তিনি আসলে সেই ঘৃণার রাজনীতিকেই উস্কানি দিচ্ছেন… ঠিক যেন এক ‘রিংমাস্টার’।”
খাদ্যাভ্যাস এবং বাংলার অস্মিতা:
তৃণমূলের দাবি, বিজেপি এখন ঠিক করে দিতে চাইছে সাধারণ মানুষ কী খাবে, কী পরবে। খাদ্যাভ্যাস ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর বিজেপির হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে পোস্টে লেখা হয়েছে, “বিজেপির ধর্ম ঘৃণা দিয়ে শুরু হয়, ভীতি প্রদর্শনে বেড়ে ওঠে এবং হিংসায় গিয়ে শেষ হয়।” গরিব বিক্রেতাদের মারধর করাকে বিজেপির ‘সংস্কৃতি’ এবং আক্রমণকারীদের সম্মান জানানোকে তাদের ‘নৈতিকতা’ বলে তীব্র কটাক্ষ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার নদীয়ার প্রশাসনিক মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনা নিয়ে প্রথম মুখ খোলেন এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের কথা উল্লেখ করে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেছিলেন, ‘বাংলা আর উত্তরপ্রদেশ এক নয়’। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনাকে তৃণমূল ‘বাঙালি অস্মিতা’ এবং ‘খাদ্যাভ্যাসের স্বাধীনতা’র ওপর আঘাত হিসেবে তুলে ধরে আগামিদিনে বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রচারের পথে হাঁটতে চলেছে।