ভুয়ো ধর্মগুরু ও দেহরক্ষীর পর এবার ‘বাবরি ট্রাস্টের’ নামে QR কোড জালিয়াতির অভিযোগ! চরম অস্বস্তিতে হুমায়ুন কবীর

বাবরি মসজিদ নির্মাণ নিয়ে জোরদার হুঙ্কার ছেড়ে চলা সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর একের পর এক ধাক্কা খাচ্ছেন। ভুয়ো ধর্মগুরু এবং ভুয়ো দেহরক্ষীর ঘটনার পর এবার তাঁর প্রস্তাবিত ‘বাবরি মসজিদের ট্রাস্টে’র নাম ব্যবহার করে QR কোড জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠল।
QR কোড জালিয়াতির অভিযোগ
হুমায়ুন কবীরের সংস্থা ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ইসলামিক ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়া’-র কোষাধ্যক্ষ মহম্মদ আমিনুল শেখ এই বিষয়ে বহরমপুর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি, ৯ ডিসেম্বর থেকেই তিন ব্যক্তি ট্রাস্টের তথ্য ডুপ্লিকেট করে নকল QR কোড তৈরি করেছে এবং এই কোডের মাধ্যমেই জালিয়াতি চালাচ্ছে। বহরমপুর সাইবার ক্রাইম শাখার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
জোড়া ধাক্কা: ভুয়ো ধর্মগুরু ও দেহরক্ষী
ভুয়ো ধর্মগুরু: এর আগে ৬ ডিসেম্বর, হুমায়ুন কবীরের প্রস্তাবিত মসজিদের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে দুই ব্যক্তিকে আরব দুনিয়ার পোশাকে মঞ্চে দেখা যায়। মঞ্চ থেকে ঘোষণা করা হয়, তারা সৌদি আরব থেকে এসেছেন। পরে হুমায়ুন কবীর নিজেই সংবাদমাধ্যমকে জানান, ওই দুজন আসলে স্থানীয় ব্যক্তি এবং কেউ তাঁকে ঠকিয়ে টাকা নিয়ে লোকাল দুজনকে সাজিয়ে নিয়ে এসেছিল।
ভুয়ো দেহরক্ষী: হায়দরাবাদ থেকে আটজন সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী আসার কথা থাকলেও, মঙ্গলবার হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে যে চারজন দেহরক্ষীকে দেখা গিয়েছিল, পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়—তারা কেউই হায়দরাবাদ থেকে আসেননি! বরং তারা সবাই স্থানীয় লোক। এতে চরম অস্বস্তিতে পড়ে তিনি তাদের রিলিজ করে দেন।
সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর বিরুদ্ধে ‘চক্রান্তের’ অভিযোগ
এই সমস্ত ঘটনার নেপথ্যে চক্রান্ত দেখতে পাচ্ছেন ভরতপুরের সাসপেন্ডেড বিধায়ক। ভুয়ো ধর্মগুরুর প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি রাজ্যের মন্ত্রী ও জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দের সভাপতি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর দিকে আঙুল তুলেছেন।
হুমায়ুন কবীরের দাবি, জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দের সেক্রেটারি মৌলানা ইউসুফ, যিনি ভরতপুরের বাসিন্দা, তিনিই গুজরাট থেকে সৌদি আরবের মৌলানাদের এনে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। হুমায়ুন কবীরের সরাসরি অভিযোগ, “ওটাও এই সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর সংগঠনের থেকে আমার সাথে এই চক্রান্তটা করেছে, ব্লান্ডারটা। এসবের জবাব হুমায়ুন কবীর দিয়ে দেবে।”
দেহরক্ষী প্রসঙ্গেও তিনি চক্রান্তের আভাস দিয়ে বলেন, “আমি ওদেরকে রিলিজ করে দিয়েছি। এসব নিয়ে অনেক চক্রান্ত চলছে। আমি সময় মতো মুখ খুলব। কাল যাঁরা আপনারা চারজনকে দেখালেন, ওরা সব স্থানীয়। যখন খোঁজ নিলাম, তাঁরা বলছে স্থানীয়। আমি বললাম স্থানীয় কাউকে রাখব না।”