ছাত্রীর শ্লীলতাহানির জের! রণক্ষেত্র বনগাঁয় রাস্তা অবরোধ, সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে গ্রেফতার ৯, কী বললেন বিজেপি নেতা?

বনগাঁর একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তাল হওয়ার পর এবার ভাঙচুর ও পুলিশি হামলার অভিযোগে নয় জনকে গ্রেপ্তার করল বনগাঁ থানার পুলিশ। অভিযুক্তদের মধ্যে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির ৪ নম্বর মণ্ডলের সহ সভাপতি কল্লোল দাসও রয়েছেন। ধৃত বাকি আট জনের নাম শিবরঞ্জন ঘোষাল (৩২), সাদ্দাম মণ্ডল (২৭), মৈনাক বিশ্বাস (২৫), সন্দীপ হালদার (৩২), উৎপল পাল (৩৫), গৌরব বিশ্বাস (২৩), আসমাত আলি মণ্ডল (৩২) এবং আফসানা মণ্ডল (২৬)।

গতকাল, বৃহস্পতিবার ধৃতদের বনগাঁ আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

স্কুলে তাণ্ডব, ভাঙচুর ও ইটবৃষ্টি

জানা যায়, স্কুলের অস্থায়ী কর্মী সুপ্রভাত সাধু ওরফে টুরের বিরুদ্ধে ওই ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি জানাজানি হতেই স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও ক্ষুব্ধ ছাত্রীরা অভিযুক্তকে ধরে গণপিটুনি দেন। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্ত সুপ্রভাত সাধুকে গ্রেপ্তার করে।

তবে গ্রেপ্তারির পরেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে পড়ুয়া ও স্থানীয়রা রাস্তা অবরোধ শুরু করেন। বুধবার দুপুর থেকে রাত আটটা পর্যন্ত চলে এই বিক্ষোভ। অভিযোগ, এই সময় স্কুলে ভাঙচুর, পুলিশের দিকে ইটবৃষ্টি এবং গালিগালাজ শুরু হলে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।

সিসিটিভি ফুটেজে বিজেপি নেতার ভূমিকা

পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে মিশে ভাঙচুর ও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়ার ঘটনায় বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার বিজেপির ৪ নম্বর মণ্ডলের সহ সভাপতি কল্লোল দাস যুক্ত ছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজ, নিজস্ব সোর্স এবং অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখে অবরোধ, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, সরকারি কাজে বাধা এবং পুলিশকে আক্রমণের অভিযোগে বিজেপি নেতা কল্লোল দাস-সহ মোট নয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে ধৃত বিজেপি নেতা কল্লোল দাস বলেন, “আমি বিক্ষোভ, অবরোধে থেকে স্লোগান দিয়েছিলাম। এর জন্যই পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করেছে।”

এই গ্রেপ্তারি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বনগাঁর বিজেপি নেতা দেবদাস মণ্ডল অভিযোগ করেন, “অবরোধ তুলতে যারা সাহায্য করেছে, পুলিশ তাদেরই গ্রেপ্তার করেছে।” অন্যদিকে, তৃণমূলের জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, “পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। বিজেপির উস্কানিতেই স্কুলে ভাঙচুর করা হয়।”