বিয়ে ভাঙার পর প্রথমবার প্রকাশ্যে স্মৃতি মান্ধানা, ‘দেশের জার্সি পরা আমার কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রায়োরিটি’

সুরকার ও গায়ক পলাশ মুচ্ছলের সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়ার দিনই বিয়ে ভেঙে দিয়েছিলেন ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা। দীর্ঘ টালবাহানার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, এ সম্পর্ক তিনি রাখছেন না এবং জীবনে সবচেয়ে প্রথম প্রায়োরিটি ক্রিকেটই। সেই ঘটনার পর এবার প্রথমবার প্রকাশ্যে এলেন তারকা ক্রিকেটার।

বুধবার অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সরাসরি কথা না বললেও দিলেন স্পষ্ট ইঙ্গিত।

স্মৃতির কাছে ক্রিকেটই প্রেম
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর ১২ বছর পূর্ণ করার প্রসঙ্গ তুলে স্মৃতি মান্ধানা বলেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভালোবাসা এবং মোটিভেশন হলো ক্রিকেট।

“আমার মনে হয় না ক্রিকেটের থেকে বেশি আমি জীবনে অন্য কিছু ভালোবাসি। ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য ব্যাট হাতে যখন মাঠে নামি, আমার মনে আর অন্য কোনও ভাবনা থাকে না। দেশের জার্সি গায়ে চাপানো মাত্র একটাই ভাবনা মাথায় ঘোরে, ভারতকে ম্যাচ জেতানো।”

বিয়ে ভাঙা নিয়ে পরোক্ষে মন্তব্য করে স্মৃতি বলেন:

“ভারত লেখা জার্সি পরাই সবচেয়ে বড় মোটিভেশন। আমি সব সময় সবাইকে বলি, একবার ভারত লেখা জার্সি গায়ে চাপিয়ে নিলে, নিজেদের যাবতীয় সমস্যা ভুলে মাঠে ফোকাস করতে। কারণ নিজের একটা দায়িত্ববোধ থাকা দরকার। দুই বিলিয়ন মানুষের মধ্যে তুমি দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছ। এই ভাবনাই ফোকাস করার জন্য যথেষ্ট।”

সম্প্রতি তাঁর ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে গেলেও, সবকিছু পেছনে ফেলে আবার ক্রিকেটে ফোকাস ফিরিয়ে এনেছেন স্মৃতি।

বিশ্বকাপ জয় নিয়ে আবেগঘন
অনুষ্ঠানে স্মৃতি ২০১৩ সালে কেরিয়ারের শুরু থেকে গত মাসের বিশ্বকাপ জয় পর্যন্ত যাত্রার কথা বর্ণনা করেন।

“ছোটবেলা থেকেই আমি ব্যাটিং করার জন্য পাগল ছিলাম। কেউ বুঝতে পারত না কিন্তু আমি সব সময় বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে চাইতাম। আমরা বছরের পর বছর ধরে যে লড়াই করেছি, এই বিশ্বকাপ তারই পুরস্কার। আমরা এর জন্য অধীরভাবে অপেক্ষা করছিলাম।”

তিনি কিংবদন্তি ক্রিকেটার ঝুলন গোস্বামীর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন:

“আমরা সত্যিই তাঁদের জন্য বিশ্বকাপ জিততে চেয়েছিলাম। তাঁদের চোখে জল দেখে মনে হয়েছিল যেন পুরো মহিলা ক্রিকেট জিতে গেছে। এটি তাঁদের লড়াইয়ের জয়।”

উল্লেখ্য, ২৩ নভেম্বর পলাশ মুচ্ছলের সঙ্গে স্মৃতি মান্ধানার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল, যা তাঁর বাবার অসুস্থতার কারণে স্থগিত হয়। শেষমেশ ৭ ডিসেম্বর সোশ্যাল মিডিয়ায় স্মৃতি এবং পলাশ বিয়ে ভাঙার ঘোষণা করেন।