স্মৃতির শহরে ‘ড্রিমগার্ল’, ধর্মেন্দ্রর স্মরণসভায় আবেগপ্রবণ হেমা মালিনী, “সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও উনি মাটির সঙ্গে জুড়ে ছিলেন”।

প্রয়াত অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর স্মরণসভায় স্মৃতির শহরে উপস্থিত হলেন তাঁর স্ত্রী, ‘ড্রিমগার্ল’ হেমা মালিনী। এদিন দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানান তিনি। এই প্রার্থনাসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও উপস্থিত ছিলেন।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে হেমা মালিনী আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। একসময় তাঁর গলা বুজে আসে। নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি বলেন:

“আমি কখনই ভাবিনি, আমার জীবনে… ধরমজি একজন বিশাল বড় ব্যক্তিত্ব। যার কোনো সীমা নেই। উনি খুবই সহজ-সরল এবং মিশুকে স্বভাবের ছিলেন। সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও, উনি কখনই নিজেকে আলাদা করে রাখেননি। সবসময় মাটির সঙ্গেই জুড়ে ছিলেন।”

অভিনয় ও ক্যামেরা প্রেম
হেমা মালিনী হালকা হেসে বলেন, ধর্মেন্দ্র তাঁর ক্যারিয়ারে ৩০০টিরও বেশি ছবিতে কাজ করেছেন এবং নানা চরিত্রে অভিনয় করেছেন—কখনও রোমান্টিক, কখনও অ্যাকশন হিরো।

“তিনি ক্যামেরা খুবই ভালোবাসতেন। অভিনয় করতে ভালোবাসতেন। যে চরিত্রই হোক না কেন, সেই চরিত্রের একেবারে ভিতরে ঢুকে তার সারমর্ম বুঝে অভিনয় করতেন। তাঁর অভিনয় মানুষের হৃদয়কে ছুঁয়ে গিয়েছে। কখনও শোলে-র বীরু তো কখনও প্রতিজ্ঞা ছবিতে ট্রাক ড্রাইভারের ভূমিকাতেও অভিনয় করেছিলেন। চুপকে চুপকে থেকে সীতা অউর গীতা, ধর্মেন্দ্রর উল্লেখযোগ্য সব ছবিগুলির নামই এদিন ড্রিমগার্লের মুখে শোনা গিয়েছে।”

শায়েরির বই প্রকাশের ইচ্ছা ছিল অধরা
হেমা মালিনী জানান, ধর্মেন্দ্রর আরও একটি সুপ্ত প্রতিভা ছিল—উর্দু শায়েরি লেখা। তিনি যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত একটি শায়েরি শুনিয়ে দিতে পারতেন।

“আমিও অনেকবার বলেছি যে, আপনি এত সুন্দর লেখেন, তো এটাকে একটা বই আকারে প্রকাশ করা উচিত। ভক্তরা ভালোবাসবে। তো তিনি এটা নিয়ে খুবই সিরিয়াসই ছিলেন। তিনি চাইছিলেনও এটা করতে। কিন্তু সেই কাজটা অধরাই রয়ে গেল।”

রাজনীতিতে ধর্মেন্দ্র: ‘আনন্দ নেই’
সিনেমা এবং রাজনীতির দুটি ভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হেমা মালিনী স্মরণ করেন, ধর্মেন্দ্রর রাজনৈতিক কেরিয়ার সফল হলেও, তাতে তাঁর রুচি ছিল না।

“২০০৪ সালে, ধরমজির বিকানের লোকসভা কেন্দ্র থেকে ভোটে দাঁড়ানোর সুযোগ মিলেছিল। ভোটে লড়ে তিনি জয়ীও হয়েছিলেন। … ৫ বছরের সময়কালে উনি খুব ভালো কাজ করেছিলেন বিকানের-এ। কিন্তু রাজনীতিতে তাঁর উৎসাহ থাকলেও ততটা রুচি ছিল না। সিনেমা করলে যে আনন্দ পাওয়া, সেটা রাজনীতিতে মেলে না।”