গীতাপাঠ অনুষ্ঠানে নিরামিষ বলে চিকেন প্যাটিস বিক্রি, জামিন পেয়েই যা বললেন অভিযুক্তরা

ব্রিগেডে গীতাপাঠের অনুষ্ঠানের দিন এক প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধরের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল, তা এবার নতুন মোড় নিল। বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্কশাল আদালত এক হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে অভিযুক্ত তিনজনকে জামিন দেওয়ার পরই ঘটনার নাটকীয় পরিবর্তন ঘটল। জামিনে মুক্ত হয়েই ধৃতরা উলটো অভিযোগ তুলেছেন প্যাটিস বিক্রেতার বিরুদ্ধে, যা নিয়ে ফের বিতর্ক তুঙ্গে।
জামিন পেয়েই ‘আমিষ’ বিক্রির পাল্টা অভিযোগ
জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিন অভিযুক্তের দাবি, প্যাটিস বিক্রেতা আমিষ প্যাটিসকে নিরামিষ বলে বিক্রি করছিলেন, যার ফলেই ঘটনার সূত্রপাত। অভিযুক্তরা শুধু অভিযোগ তুলেই থামেননি, এই বিষয়ে ময়দান থানায় প্যাটিস বিক্রেতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, সম্পূর্ণ ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিরামিষের নামে আমিষ বিক্রি করা হচ্ছে শুনে ক্রেতাদের মধ্যে প্রথমে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। সেই উত্তেজনা থেকেই ঝগড়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এটি কোনো ধর্মীয় বিদ্বেষের ঘটনা নয়, বরং খাদ্যদ্রব্যের ভুল তথ্য নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক।
মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, তারপরই জামিন
এই ঘটনা নিয়ে বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগরের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র কটাক্ষ করেন। এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই আদালত তিন ধৃতকে জামিন মঞ্জুর করে।
অন্যদিকে, সরকারি আইনজীবী অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে তিন অভিযুক্তের জামিনের বিরোধিতা করেন। তাঁর জোরালো সওয়াল ছিল, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিক্রেতাকে হেনস্তা করা হয়েছিল, যা একটি জামিন অযোগ্য অপরাধ। সরকারি পক্ষের দাবি ছিল, তিন অভিযুক্তকে কোনোমতেই জামিন দেওয়া উচিত হয়নি। তবে সরকারি আইনজীবীর সওয়াল সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ব্যাঙ্কশাল আদালত তিন অভিযুক্তকেই জামিনে মুক্তি দেয়।
একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক কটাক্ষ, অন্যদিকে জামিন পেয়েই বিক্রেতার বিরুদ্ধে অভিযুক্তদের পাল্টা অভিযোগ এবং মামলা দায়ের—সব মিলিয়ে ব্রিগেডের ‘প্যাটিস-কাণ্ড’ বর্তমানে এক গভীর আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।