ভারতীয় রেলের আর্থিক বেহাল দশা, ১০০ টাকা আয়ে খরচ ৯৮ টাকা, অপারেটিং রেশিও ৯৮ শতাংশেরও বেশি, স্বীকার করলেন রেলমন্ত্রী।

ফের সামনে এল ভারতীয় রেলের (Indian Railways) বেহাল আর্থিক ছবির খতিয়ান। লোকসভায় এক লিখিত প্রত্যুত্তরে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানালেন—২০২২-২৩ থেকে ২০২৪-২৫, দু’বর্ষের ব্যবধানে রেলের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য আরও খারাপ হয়েছে।
অপারেটিং রেশিও (Operating Ratio) ৯৮ শতাংশের উপরে
বিজেপি সাংসদ ডি পুরন্দেশ্বরীর প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী জানান, বিগত তিন আর্থিক বছরেই রেলের অপারেটিং রেশিও ৯৮ শতাংশেরও বেশি—যা রেলের প্রায় সংকটজনক আর্থিক অবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
২০২২-২৩ সাল: অপারেটিং রেশিও ছিল ৯৮.১০ শতাংশ।
২০২৪-২৫ সাল: অপারেটিং রেশিও বেড়ে হয়েছে ৯৮.২২ শতাংশ।
এর সহজ অর্থ হলো, ১০০ টাকা আয় করতে রেলকে খরচ করতে হচ্ছে ৯৮ টাকারও বেশি। রেলমন্ত্রী স্বীকার করেন যে এই হিসেব বিশ্বের যে কোনও বড় রেল ব্যবস্থার তুলনায় অত্যন্ত দুর্বল।
বাংলার প্রকল্প: দেরির কারণ ‘জমি-জট’, অর্থের অভাব নয়
আর্থিক বেহাল দশার মধ্যেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের একমাত্র লক্ষবস্তু—বাংলার রেল প্রকল্প! রেলমন্ত্রক আবারও সেই পুরনো সুরে জানিয়েছে, বাংলার বিভিন্ন রেল ও মেট্রো প্রকল্পের দেরির কারণ অর্থের অভাব নয়, বরং রাজ্য সরকারের ‘জমি-জট’।
আরইউবি/আরওবি নির্মাণ: আজিমগঞ্জ–নিউ ফারাক্কা শাখায় আরওবি (Road Over Bridge) নির্মাণ নিয়ে কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী বলেন, বাংলায় অনুমোদিত ৩০২টি আরইউবি/আরওবি প্রকল্পের মধ্যে ৯৯টি রাজ্যের ঢিলেমির জন্য থমকে। এর মধ্যে ১০টি প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণই হয়নি।
কলকাতা মেট্রো সম্প্রসারণ: কল্যাণী এইমস পর্যন্ত কলকাতা মেট্রোর সম্প্রসারণ নিয়ে তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিকের প্রশ্নেরও সরাসরি উত্তর দেননি রেলমন্ত্রী। উল্টে ফের জমি-জটের কথা টেনে এনে পরোক্ষে রাজ্য সরকারকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন।