শিক্ষকতার অবসরে নাটকের অনুশীলন, গ্রামীণ শিল্পকে বাঁচাতে মেদিনীপুরের শিক্ষকদের অভিনব উদ্যোগ

বিদ্যালয়ের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর মেদিনীপুরের একদল শিক্ষক নেমে পড়েন অন্য এক দায়িত্ব পালনে—তা হল নাট্যচর্চা। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ছোট ছেলেমেয়েদের পাঠদান তাঁদের পেশা। তবে সন্ধ্যা নামলেই তাঁরা একত্রিত হয়ে শুরু করেন দৃশ্যে অভিনয়ের অনুশীলন।

গ্রামীণ এলাকা থেকে হারিয়ে যেতে বসা প্রাচীন সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চা, বিশেষত নাটকের ধারাকে বহমান রাখতেই এই শিক্ষকেরা গড়ে তুলেছেন ‘সুকৃৎ নাট্যধারা’ নামে একটি নাট্যদল। এই দলের সদস্যরা কেউ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, কেউ বা সহকারী শিক্ষক।

হারিয়ে যাওয়া শিল্পধারায় নতুন প্রাণ
আজকের দিনে মোবাইল ও ওটিটির যুগে নাটকের মতো শিল্পধারাগুলি প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। নাটক দেখা তো দূর, নাটক করার মতো সময়ের সংকুলানও প্রায় নেই। এই শিক্ষকদের মতে, মোবাইল রিলসের দুনিয়ায় প্রাচীন এই শিল্পধারা যেন কোণঠাসা। আর সেই শিল্পধারাকে নতুন করে প্রাণ দিচ্ছেন এই শিক্ষকেরা।

বিদ্যালয় থেকে ফিরে এসে তাঁরা নিয়মিত অনুশীলন করেন। তাঁরা নিজেরাই নাটক লেখেন, এবং প্রমটে তাল মিলিয়ে প্রতিদিন চলে তাঁদের প্র্যাকটিস। শুধু তাই নয়, প্রাথমিকভাবে নিজেরাই মিউজিক অ্যারেঞ্জার, নিজেরাই লাইট ম্যানের ভূমিকাও পালন করেন। তাঁদের এই কাজে সহযোগিতা করেন বেশ কয়েকজন প্রাক্তন শিক্ষক ও বন্ধুরাও।

বেলদায় বসছে নাট্য উৎসবের আসর
গত বছরের মতো এ বছরও এই শিক্ষকদের উদ্যোগে একটি নাট্য উৎসবের আয়োজন হতে চলেছে। আগামী ২৬ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত বেলদা শহরে এই নাট্য উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

এই উৎসবে রাজ্যের বিভিন্ন কলাকুশলীরা অভিনয় করলেও, সুযোগ দেওয়া হচ্ছে এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদেরও। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে নাটকের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছেন শিক্ষকেরা। শিক্ষকতার অবসরে শিক্ষকদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় মানুষজন। তাঁদের মতে, সংস্কৃতি ও শিল্পধারাকে বাঁচাতে শিক্ষকদের এই ভাবনা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।