আলপসের পাহাড়ে প্রেমিকার মৃত্যু, প্রেমিক অভিযুক্ত! তীব্র ঠান্ডায় অসুস্থ সঙ্গীকে কম্বল না দিয়ে একা ফেলে নেমে আসার অভিযোগ।

পাহাড়ে চড়া ছিল ৩৩ বছর বয়সি কার্স্টিন গুর্টনারের নেশা। নিজেকে ‘পাহাড়ি মানুষ’ হিসেবে পরিচয় দিতেন তিনি। এই নেশাই হয়তো তাঁকে ৩৬ বছর বয়সি দক্ষ পর্বতারোহী থমাস প্লামবার্গারের কাছাকাছি এনেছিল। কিন্তু এই প্রেম তাঁর জীবন কেড়ে নিল।

অস্ট্রিয়ার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ গ্রোসগ্লকনার জয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এই প্রেমিক যুগল। যাত্রা শুরুও করেন তাঁরা। তবে যাত্রা শুরুর সময় কিছুটা দেরিতে হওয়ায় পরিস্থিতি আরও প্রতিকূল হয়। যতই উপরে উঠছিলেন, প্রবল ঝোড়ো হাওয়া ও মাইনাস ২০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ঠান্ডার কামড় ততই বাড়ছিল।

মাত্র ১৫০ ফুট নিচে ঘটল মর্মান্তিক ঘটনা
প্রায় মধ্যরাতে তাঁরা গ্রোসগ্লকনার পর্বতের চুড়ো থেকে মাত্র ১৫০ ফুট নিচে ছিলেন। তখনই গুর্টনার অসুস্থ অনুভব করতে শুরু করেন। তীব্র ঠান্ডায় তিনি হাইপোথার্মিক হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর শরীরকে উত্তাপের মাধ্যমে রক্ষা করা জরুরি ছিল।

অভিযোগ উঠেছে, এই সময় তাঁর প্রেমিক থমাস প্লামবার্গারের কাছে পাহাড়ের ঠান্ডাকে মোকাবিলা করার জন্য উপযুক্ত সরঞ্জাম— কম্বল এবং বিশেষ বিভুয়াক স্যাক (Bivouac Sac) ছিল। এই স্যাকের মধ্যে একজন মানুষ নিশ্চিন্তে শুয়ে থাকতে পারেন এবং ঠান্ডা প্রবেশ করতে পারে না।

কিন্তু সেই জরুরি সরঞ্জাম প্রেমিকাকে না দিয়ে তাঁকে একা ওই অবস্থায় ফেলে রেখেই থমাস নীচে নেমে আসেন।

উদ্ধারের আগেই শেষ নিশ্বাস
পাহাড় থেকে নেমে এসে থমাস লোকজনকে খবর দেন গুর্টনারকে উদ্ধারের জন্য। ততক্ষণে অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে। উদ্ধারকারী দল যখন পৌঁছয়, তীব্র ঠান্ডায় কার্স্টিন গুর্টনারের প্রাণ বায়ু ততক্ষণে বেরিয়ে গেছে।

অভিজ্ঞ পর্বতারোহী হিসেবে থমাস ভালোভাবেই জানতেন যে এই সরঞ্জামগুলো ব্যবহার করলে তাঁর প্রেমিকা হয়তো এভাবে ঠান্ডায় মারা যেতেন না। এমন গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অস্ট্রিয়ায় আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।