জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কড়া কলকাতা হাইকোর্ট! ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়ার জমি কেন হস্তান্তরিত নয়? প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে হলফনামা দেওয়ার নির্দেশ।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার দাবিতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় (PIL) কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যের জমি অধিগ্রহণ দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে হলফনামা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।
কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি অনুযায়ী, ১৮১ কিলোমিটার জমি অধিগ্রহণের টাকা কেন্দ্র ইতিমধ্যে দিয়ে দিলেও সেই জমি কেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে (Union Home Ministry) হস্তান্তর করা হচ্ছে না, তা হলফনামার মাধ্যমে জানাতে হবে রাজ্যকে। আগামী ২২ ডিসেম্বর এই মামলার ফের শুনানি রয়েছে।
মামলাকারীর মূল অভিযোগ
মামলাকারী ডঃ সুব্রত সাহার আইনজীবী আদালতে জানান, পশ্চিমবঙ্গের ২,২১৬ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার মধ্যে প্রায় ৩৭৮ কিলোমিটার অংশে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত কাজের জন্য কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে ২২৯ কিলোমিটার জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং ১৮১.৬৩ কিলোমিটারের জন্য কেন্দ্র ইতিমধ্যেই টাকা মিটিয়ে দিয়েছে। কিন্তু রাজ্যের তৎপরতার অভাবে বকেয়া কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না।
আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন যে, এই জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে রাজ্যসভায় একাধিকবার বিতর্ক হয়েছে (১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১৭ মার্চ ২০২১, ৩১ মার্চ ২০২২ ও ২৮ অগস্ট ২০২৫)।
জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন
দেশের ৪ হাজার কিলোমিটারের বেশি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ২,২১৬ কিলোমিটার সীমান্তটি অবৈধ অনুপ্রবেশ, জাল নোট পাচার এবং বেআইনি চোরাচালানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মালদা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ মোট ৯টি জেলা এই সীমান্ত এলাকার সঙ্গে যুক্ত। কেন্দ্র ও মামলাকারীর দাবি— যেহেতু এটা একটা জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়, তাই রাজ্যের হাতে থাকা জমি দ্রুত কেন্দ্রকে হস্তান্তর করা উচিত।
কেন্দ্রের অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী আদালতে বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় জড়িত থাকায় কেন্দ্রের বিশেষ ক্ষমতা আছে এই ধরনের কাজে। কেন্দ্র টাকা দিয়েছে, কিন্তু রাজ্য অধিগ্রহণ করা জমি হস্তান্তর করছে না।”
হাইকোর্টের নির্দেশ
রাজ্যের আইনজীবী শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মোট ৯টি জেলার কথা উল্লেখ করে জানান যে, ৩১ মার্চ, ২০২০-এর পর উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কিছু জমিদাতা এখনও টাকা পাননি। তিনি আরও বলেন যে, রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর মামলায় যুক্ত থাকলেও, জমি অধিগ্রহণ দফতরকে মামলায় যুক্ত না করলে সম্পূর্ণ বিস্তারিত তথ্য পাওয়া সম্ভব নয়।
এই বক্তব্য শোনার পরই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দেয়:
রাজ্যের জমি অধিগ্রহণ দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে অবিলম্বে মামলায় যুক্ত করতে হবে।
জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ১৮১ কিলোমিটার জমি অবিলম্বে হস্তান্তর করা উচিত।
প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে এই বিষয়ে তাঁদের বিস্তারিত বক্তব্য হলফনামা আকারে জমা দিতে হবে।