শেখ শাহজাহানের ইন্ধনেই খুন? দুর্ঘটনায় সাক্ষীর ছেলের মৃত্যু, ঘাতক ট্রাকের বেআইনি যাতায়াত নিয়ে বড় প্রশ্ন

পশ্চিমবঙ্গের ন্যাজাট-কাণ্ডে এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। যে ঘাতক ট্রাকের ধাক্কায় শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে সিবিআই মামলার অন্যতম সাক্ষী ভোলানাথ ঘোষের ছোট ছেলে সত্যজিৎ ঘোষ এবং চারচাকা গাড়ির চালক শাহানুর আলমের মৃত্যু হয়েছে, সেই ট্রাকটির পারমিট, ফিটনেস, রেজিস্ট্রেশন এবং বিমার কাগজপত্র সবই ছিল মেয়াদ উত্তীর্ণ। তা সত্ত্বেও ট্রাকটি অবাধে সন্দেশখালি থেকে বাসন্তী হাইওয়েতে চলাচল করছিল। এই দুর্ঘটনায় ভোলানাথ ঘোষ বরাতজোরে প্রাণে বেঁচে যান।
পরিবারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ: এটি দুর্ঘটনা নয়, খুন
নিহত সত্যজিতের পরিবারের অভিযোগ, জেলবন্দি শেখ শাহজাহানের ইন্ধনেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, পরিকল্পনা করে ঘাতক ট্রাকের চালক আব্দুল আলিম মোল্লা তাঁদের গাড়িতে ধাক্কা দিয়েছেন এবং ভোলানাথকে খুন করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। ভোলানাথের বড় ছেলে বিশ্বজিৎ ঘোষ সরাসরি এটিকে দুর্ঘটনা উড়িয়ে দিয়ে ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর পিছনে খুনের অভিযোগ এনেছেন।
এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—কীভাবে পারমিট এবং ফিটনেস ‘ফেল’ করা একটি ট্রাক দিনের পর দিন রাস্তায় অবাধে চলছিল? পুলিশ কেন এই বিষয়ে নজর দিল না? পুলিশি সূত্রে খবর, ঘাতক ট্রাকের মেয়াদ উত্তীর্ণ কাগজপত্রের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এক্ষেত্রে কারও গাফিলতি থাকলে সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হবে।
ট্রাক মালিক ও চালককে ঘিরে রহস্য
জানা যাচ্ছে, ঘাতক ট্রাকটির (নম্বর WB65D3284) রেজিস্ট্রেশন হয়েছিল ২০২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর এবং তার ফিটনেসের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয় চলতি বছরের ২ নভেম্বর, আর পারমিট পেরিয়ে যায় ১২ অক্টোবর। এই ট্রাকটির মালিক আব্দুল সামাদ মোল্লা, যিনি সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লকের সরবেড়িয়া আগারাটি পঞ্চায়েতের সদস্য। ঘটনার পর থেকে তিনিও বাড়ি থেকে উধাও। যদিও সামাদের পরিবারের দাবি, ৮ মাস আগে ট্রাকটি নজরুল মোল্লা নামে আরেক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়েছিল, যারও কোনো খোঁজ মিলছে না।
এদিকে, ঘাতক ট্রাকের চালক আব্দুল আলিম মোল্লা ঘটনার পর বাইক নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। ভোলানাথ তাঁর লিখিত অভিযোগে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, চালকই এক লেন থেকে অন্য লেনে এসে তাঁদের গাড়িতে সরাসরি ধাক্কা দেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বুধবার সন্ধ্যায় রাজবাড়ি ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
সন্দেশখালির বিজেপি নেত্রী পিয়ালি ওরফে মাম্পি দাস অভিযোগ করেছেন, ইএমআই ‘ফেল’ করা ট্রাকটিকে দিয়ে পরিকল্পনা করে শাহজাহান মামলার সাক্ষীকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, সন্দেশখালির তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার মাহাতো ভোলানাথের পরিবারের খুনের চক্রান্তের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “যে কেউ খুনের চক্রান্তের অভিযোগ করতে পারে। পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্তের মাধ্যমেই আসল মোটিভ বেরিয়ে আসবে। পুলিশ যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং তাদের ওপর আমাদের সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে।”
প্রসঙ্গত, ভোলানাথ ঘোষ একসময় শেখ শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, কিন্তু তাঁর অনৈতিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ করায় তিনি শাহজাহানের রোষের শিকার হন। শাহজাহান গ্রেফতার হওয়ার পর ভোলানাথ সিবিআইয়ের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। পরিবারের দাবি, বুধবারের এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে শাহজাহান ঘনিষ্ঠরা এখনও তাঁর উপর প্রতিশোধ নিতে চাইছে।