SPORTS: দলে সুযোগ না-পেয়ে কোচকে বেধড়ক মার, অভিযুক্ত ৩ ক্রিকেটার

ভারতীয় ক্রিকেটে শোরগোল ফেলে দিল এক নির্মম এবং একইসঙ্গে বিতর্কিত ঘটনা। দলে সুযোগ না-পেয়ে পুদুচেরির অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচকে বেদম প্রহার করার অভিযোগ উঠেছে তিন সিনিয়র ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে। হামলার অভিঘাত এতটাই গুরুতর যে, কোচের কপালে ২০টি সেলাই পড়েছে! ঘটনাটি ঘটেছে পুদুচেরি ক্রিকেট অ্য়াসোসিয়েশন (CAP)-এ।

‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির স্কোয়াডে জায়গা না-হওয়ায় ক্ষুব্ধ তিন ক্রিকেটার গত সোমবার কোচ এস ভেঙ্কটরমনকে বেধড়ক মারধর করেন। জানা যাচ্ছে, মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার পাশাপাশি তাঁর কাঁধেও চিড় ধরেছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সেদারাপেট থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

সেদারাপেট থানার সাব-ইন্সপেক্টর এস রাজেশ ‘দ্য় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে বলেন, “ভেঙ্কটরমনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাঁর কপালে ২০টি সেলাই পড়েছে। তবে তাঁর অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। অভিযুক্ত ক্রিকেটাররা বর্তমানে পলাতক। তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।”

কারা অভিযুক্ত?

পুদুচেরির অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ এস ভেঙ্কটরমন পুলিশকে জানিয়েছেন, গত ৮ ডিসেম্বর সিএপি-র ইন্ডোর নেটে তাঁর উপর এই হামলা চালায় তিন সিনিয়র ক্রিকেটার। পুলিশকে অভিযুক্তদের নামও জানিয়েছেন তিনি— কার্তিকেয়ন, অরবিন্দ রাজ এবং সন্তোষ কুমারন।

পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে ভেঙ্কটরমন স্পষ্ট করেছেন, ব্যাট দিয়ে তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করাই ছিল সংশ্লিষ্ট তিন ক্রিকেটারের উদ্দেশ্য। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে সুযোগ না-পাওয়ার কারণেই যে এই হামলা, তাও তিনি নিশ্চিত করেছেন।

কোচের বিরুদ্ধেই পাল্টা অভিযোগ!

যদিও কোচকে মারধরের এই গুরুতর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় ক্রিকেটারদের একাংশ। ‘ভারতীদশন পণ্ডিচেরী ক্রিকেটার্স ফোরাম’ এই ঘটনায় ভেঙ্কটরমনকেই কাঠগড়ায় তুলেছে। স্থানীয় ক্রিকেট ফোরামের প্রেসিডেন্ট সেন্থিল কুমারন বলেন, “ভেঙ্কটরমন অভব্য আচরণ ও গালিগালাজের জন্য পরিচিত। স্থানীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে তাঁর নামে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।”

বোর্ডের নজরদারিতে ঘটনাটি

এদিকে, বিতর্কিত এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নড়েচড়ে বসেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব দেবজিৎ সইকিয়া বলেন, “অভিযোগ ভীষণই গুরুতর। বিসিসিআই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।”

এই বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য এখনও আসেনি পুদুচেরি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের তরফে। তবে সংস্থার সিইও রাজু মেহতা জানিয়েছেন, “পুদুচেরি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিত্ব করা সকল ক্রিকেটারকে বিসিসিআই-এর যোগ্যতা অর্জনের মানদণ্ড মেনে চলা আবশ্যক। দুর্নীতি এবং খারাপ কাজের প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে কোনওরকম বরদাস্ত (জিরো টলারেন্স) করা হবে না।”

এই ঘটনা ভারতীয় ক্রিকেটের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা এবং খেলোয়াড়ি মনোভাব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।