২৫ মৃত্যুর ঘটনায় সুবিচার! কীভাবে থাইল্যান্ডে ধরা পড়ল ক্লাব-মালিক সৌরভ ও গৌরব লুথরা?

গোয়ার রোমিও লেন ক্লাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার মূল অভিযুক্ত, লুথরা ভাইদের থাইল্যান্ডে আটক করা হয়েছে। সরকারি সূত্রে খবর, সৌরভ লুথরা এবং গৌরব লুথরাকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে গিয়েছে এবং তাদের ভারতে দ্রুত প্রত্যর্পণের (Extradition) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই ভারতীয় তদন্তকারী দল তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে।

কীভাবে ধরা পড়ল অভিযুক্তরা?

গোয়া পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত লুথরা ভাইদের পাসপোর্ট স্থগিত (Suspend) করেছিল এবং ইন্টারপোলের কাছে ‘ব্লু কর্নার নোটিস’-এর আবেদন জানায়। বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) নির্দেশে পাসপোর্ট আইন ১৯৬৭-র ধারা ১০এ অনুযায়ী পাসপোর্ট বাতিল হওয়ায় লুথরা ভাইদের আন্তর্জাতিক যাত্রা বন্ধ হয়ে যায়। থাইল্যান্ডে আটক হওয়ার ফলে এখন তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পথ সুগম হয়েছে বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল। ইন্টারপোলের ‘ব্লু কর্নার নোটিস’ মূলত কোনও ব্যক্তির পরিচয় বা অবস্থান সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত হয়, যা এই আটক প্রক্রিয়ায় সাহায্য করেছে।

তদন্তে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় ক্লাবে নৃত্য পরিবেশন চলছিল এবং ইলেকট্রনিক আতশবাজি ব্যবহৃত হয়েছিল, যার ফলেই আগুন লাগে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো— ৭ ডিসেম্বর রাত ১টা ১৭ মিনিটে, দমকল ও উদ্ধারকাজ চলার মধ্যেই লুথরা ভাইয়েরা অনলাইনে থাইল্যান্ডের টিকিট বুক করেন এবং দেশ ছাড়েন।

জামিনের আবেদন খারিজ, অন্য মালিক গ্রেফতার

এদিকে, বুধবার রোহিনী আদালত লুথরা ভাইদের তাৎক্ষণিক অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। তারা চিকিৎসাজনিত কারণ দেখিয়ে চার সপ্তাহের আগাম জামিন চেয়ে দাবি করেছিলেন যে তারাও এই “ঘটনার শিকার”। অন্যদিকে, গোয়া পুলিশ ক্লাবের চারজন মালিকের মধ্যে অজয় গুপ্তা নামের একজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে। তবে তিনি নিজেকে কেবল ‘স্লিপিং পার্টনার’ দাবি করে দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পর্কে অজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ন্ত স্পষ্ট জানিয়েছেন, লুথরা ভাইদের রেহাই দেওয়া হবে না। তিনি রোমিও লেন ভগতোরের মূল আউটলেটটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়ে বার্তা দিয়েছেন—রাজ্যে জননিরাপত্তা বিপন্নকারী অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেবে।