ওয়াকফ সম্পত্তি, কেন্দ্রের পোর্টালে তথ্য আপলোডে নজির, শীর্ষে নদিয়া-মুর্শিদাবাদ; আতঙ্ক কাটাতে মুখ খুলল রাজ্য

কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন ‘উমিদ’ পোর্টালে ওয়াকফ সম্পত্তি নথিভুক্তিকরণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে গিয়ে নজির গড়ল রাজ্যের দুই জেলা – নদিয়া ও মুর্শিদাবাদ। কেন্দ্র-রাজ্য আইনি চাপানউতোর ও রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেও, দ্রুত তথ্য আপলোডের মাধ্যমে এই দুই জেলা রাজ্যের মধ্যে প্রথম সারিতে উঠে এসেছে।
রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান শহীদুল্লাহ মুন্সি জানিয়েছেন, ‘উমিদ’ পোর্টালে তথ্য আপলোডের ক্ষেত্রে সবথেকে ভালো সাফল্য মিলেছে এই দুই জেলায়। একই সঙ্গে ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া আতঙ্ক দূর করতে বুধবার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে রাজ্য সরকার। সরকার জানিয়েছে, পোর্টালে নাম তুললেই জমি কেন্দ্রের দখলে চলে যাবে—এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন।
৯২ শতাংশ সাফল্য নিয়ে শীর্ষে নদিয়া
রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডের সাম্প্রতিকতম পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পঞ্জিকরণের কাজে রাজ্যে সবথেকে এগিয়ে রয়েছে নদিয়া জেলা। নদিয়ায় মোট ১১৯৯টি ওয়াকফ সম্পত্তির মধ্যে ১১০২টি সম্পত্তি ইতিমধ্যেই পোর্টালে নথিভুক্ত হয়ে গিয়েছে। শতকরা হিসেবে সাফল্যের হার ৯২ শতাংশ।
নদিয়ার পরেই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা। এই জেলায় মোট ৪৪৮৬টি ওয়াকফ সম্পত্তির মধ্যে ৩৪৭২টি সম্পত্তি ‘উমিদ’ পোর্টালে নথিভুক্ত হয়েছে, যার সাফল্যের হার ৭৭.৩৪ শতাংশ। মালদহ ও হাওড়া জেলাও প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ শেষ করেছে। রাজ্য ওয়াকফ বোর্ড সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট সময়সীমার আগেই রাজ্যে ১০০ শতাংশ ডিজিটাল পঞ্জিকরণ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। এই জন্য জেলা ও ব্লক স্তরে অতিরিক্ত সহায়তা কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
আতঙ্ক নয়, ভরসা রাখুন: নবান্নের বার্তা
‘উমিদ’ পোর্টাল নিয়ে মানুষের মনে তৈরি হওয়া সংশয় দূর করতে বুধবার নবান্ন একটি বিশেষ নোট প্রকাশ করে। সেখানে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় আট হাজার ওয়াকফ এস্টেট এবং তার অধীনে বিরাশি হাজার ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে। এই সমস্ত সম্পত্তির বিস্তারিত তথ্য আগেই কেন্দ্রীয় সরকারের পুরনো পোর্টাল ‘ওয়ামসি’তে (WAMSI) নথিভুক্ত ছিল।
নবান্নের ব্যাখ্যা, পুরনো ‘ওয়ামসি’ পোর্টালে তথ্য আপলোড করত রাজ্য ওয়াকফ বোর্ড। আর নতুন ‘উমিদ’ পোর্টালে মুতওয়াল্লিদের ব্যক্তিগতভাবে তথ্য আপলোড করতে হচ্ছে, যা পরে বোর্ড অনুমোদন করবে—পার্থক্য শুধু এটুকুই। তাই নতুন করে তথ্য দিলেই সম্পত্তি বেহাত হয়ে যাবে বা কেন্দ্রের দখলে চলে যাবে, এই প্রচার সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অপপ্রচার।
সময়সীমা নিয়ে স্বস্তি ও গুজবের জবাব
৫ ডিসেম্বরের মধ্যে তথ্য আপলোডের সময়সীমা নিয়ে যে প্যানিক তৈরি হয়েছিল, তা-ও অমূলক বলে জানিয়েছে প্রশাসন। রাজ্য সরকারের ব্যাখ্যা, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই প্রক্রিয়া চলছে এবং সময়ের অভাবে কাজ শেষ করতে না-পারলে ভয়ের কিছু নেই। আদালত রাজ্য ওয়াকফ ট্রাইব্যুনালকে আইন মেনে সময়সীমা আরও ছয় মাস পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছে।
এছাড়া, কিছু অসাধু চক্রের ছড়ানো ‘কালেক্টরের খতিয়ান নম্বর ১’-এ ধর্মীয় স্থান নথিভুক্ত করার গুজবকেও ‘সম্পূর্ণ মিথ্যে’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে নবান্ন। প্রশাসনিক নোটে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, এটি ভূমি সংস্কার আইনের সময়কার একটি পুরনো আইনি প্রক্রিয়া, যাতে রাজ্য সরকার কখনোই হস্তক্ষেপ করেনি এবং এটি সম্পূর্ণ রাজ্যের এখতিয়ারভুক্ত। রাজ্য সরকারের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, “নদিয়া বা মুর্শিদাবাদের পরিসংখ্যান প্রমাণ করে দিয়েছে, মানুষ সরকারের ওপর আস্থা রাখছে। মানুষ গুজবে কান না-দিয়ে নিশ্চিন্তে পঞ্জিকরণের কাজ করুন। রাজ্য সরকার মানুষের সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।”