তিন মাস পর দেশে ফিরতেই গান, কান্না, আলিঙ্গন! বাংলাদেশের জেল থেকে কাকদ্বীপের মৎস্যজীবীদের ঘরে ফেরা

দীর্ঘ তিন মাসের বন্দিদশা কাটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরলেন দক্ষিণ 24 পরগনার কাকদ্বীপের মৎস্যজীবীরা। বুধবার ফ্রেজারগঞ্জে তাঁদের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে এক তীব্র আবেগঘন দৃশ্যের সাক্ষী থাকল এলাকা। কেউ ট্রলারে দাঁড়িয়ে গলা ছেড়ে গাইলেন গান, কেউ মনের আনন্দে গানের তালে পা মেলালেন, আবার কেউ প্রিয়জনদের সামনে দেখে আবেগে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন। পরিবারের কাছে ফিরে স্বস্তি পেলেন মৎস্যজীবীদের পরিজনরা।

তবে আনন্দের মাঝেও মিশে রইল বিষাদের সুর। আন্তর্জাতিক জলসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে তিন মাস আগে তিনটি ট্রলার-সহ মোট ৪৮ জন মৎস্যজীবীকে আটক করেছিল বাংলাদেশের উপকূলরক্ষী বাহিনী। জেলে বন্দি থাকাকালীন বাবুল দাস নামে এক মৎস্যজীবীর মৃত্যু হয়। অবশেষে দীর্ঘ আইনি ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর ৪৭ জন মৎস্যজীবীকে মুক্তি দিল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশে অকথ্য অত্যাচারের অভিযোগ!

ভারতীয় মৎস্যজীবীদের দেশে ফেরানোর জন্য রাজ্য মৎস্য দফতর, জেলা প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় সরকার তৎপর হয়েছিল। একই সময়ে, ভারতের জলসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩২ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকে আটক করে এদেশের প্রশাসন। পরে ভারত এই ৩২ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকে মুক্তি দেয়। এরপরেই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতীয় মৎস্যজীবীদের মুক্তি দেওয়া হয়।

যদিও বাংলাদেশে বন্দি থাকা অবস্থায় ভারতীয় মৎস্যজীবীদের উপর অকথ্য অত্যাচার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফ্রেজারগঞ্জে ফিরে পারমিতা ট্রলারের মৎস্যজীবী গোবিন্দ দাস সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, “আমাদের ধরার পর সারারাত বেধড়ক মারধর করেছে। অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করত। চারজন করে এসে দু’ঘণ্টা ধরে মারধর করত। আমরা ভেবেছিলাম মেরেই ফেলবে।” যন্ত্রণায় মুক্তি চেয়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “মাটি কেটে খাব তো, তবু আর মাছের ব্যবসা করব না।”

একজনকে হারিয়ে ফিরলেন ৪৭ জন

সুন্দরবন মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র জানান, ৪৮ জন বন্দির মধ্যে তাঁরা বাবুল দাসকে হারিয়েছেন, যাঁর দেহও ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ৪৭ জন ভারতীয় মৎস্যজীবীর উপর থেকে মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা জানান, যান্ত্রিক গোলযোগ বা দিক নির্ণয় ঠিকঠাক না করতে পারার কারণে প্রতি বছর ভারতীয় মৎস্যজীবীরা ভুলবশত বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে পড়েন। দুই দেশের কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার ফলেই এই প্রত্যাবর্তন সম্ভব হয়েছে। দীর্ঘ তিন মাস পর পরিবারের কাছে ফিরে এসে মৎস্যজীবীরা ও তাঁদের পরিবার উচ্ছ্বসিত।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01