কলকাতার রুফটপ রেস্তোরাঁ ও পানশালা ফের ‘মৃত্যুফাঁদ’, যৌথ অভিযানে ধরা পড়ল ভয়ঙ্কর নিরাপত্তা লঙ্ঘন

মেছুয়া ফলপট্টির ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এবং ১৩ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনার পর কলকাতার রুফটপ রেস্তোরাঁ ও পানশালাগুলিতে ফের যৌথ অভিযান চালাল পুলিশ এবং কলকাতা পুরনিগম (কেএমসি)। পুজোর আগে কড়া শর্তে এবং বন্ডে সই করিয়ে এই ব্যবসা কেন্দ্রগুলি খোলার অনুমতি দেওয়া হলেও, সম্প্রতি চালানো অভিযানে দেখা গেল নিরাপত্তার শর্তগুলি রয়ে গিয়েছে কেবল খাতায় কলমেই।
কেএমসি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দুই দিনে কলকাতার কমপক্ষে ২০-২৫টি বড় রুফটপ রেস্তোরাঁ ও পানশালায় দমকল, পুলিশ ও পুরনিগমের যৌথ বাহিনী হানা দেয়। পরিদর্শনকারীরা ৩০টিরও বেশি বিষয় খতিয়ে দেখেন।
নিয়ম ভেঙে তৈরি হয়েছে বিপদফাঁদ:
অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রুফটপ রেস্তোরাঁ ও পানশালাগুলি কর্তৃপক্ষকে দেওয়া শর্তগুলি মানেনি। গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা লঙ্ঘনের মধ্যে রয়েছে:
অনেক জায়গায় নেই অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র।
কারও আবার ফায়ার লাইসেন্সই নেই।
ছাদের দরজা খোলা রাখার শর্ত লঙ্ঘন করে দখল করা হয়েছে বারান্দা বা কমন স্পেস।
আগুন লাগলে উদ্ধার কাজ যাতে দ্রুত চালানো যায়, তার জন্য সিঁড়ি খোলা রাখার শর্তও মানা হয়নি।
সবচেয়ে মারাত্মক, অনেক রেস্তোরাঁতেই গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সরাসরি বিপজ্জনক।
কর্তৃপক্ষের কঠোর হুঁশিয়ারি:
পরিকাঠামো তৈরির জন্য কয়েক মাস সময় দেওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশের এই গাফিলতিতে ক্ষুব্ধ কর্তৃপক্ষ। এক আধিকারিক জানান, হাতে গোনা দুই-একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া কেউই নিয়ম মানছে না।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা অধিকাংশ জায়গায় দেখেছি শর্ত মেনে চলছে না। সেখানে আমরা আবার সতর্ক করে জানিয়ে এসেছি, দ্রুত আমাদের নির্দেশগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। আবারও অভিযান চালিয়ে ছবি বদল না-হলে আইন মাফিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ব্যবসা বন্ধের পথে হাঁটা হতে পারে।” মানুষের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ রেখে রুফটপগুলি ‘মৃত্যুফাঁদ’ হয়ে থাকবে, এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই কয়েক দিন লাগাতার এই আচমকা অভিযান চলবে। যেখানে যথাযথ অগ্নিনির্বাপনের পরিকাঠামো তৈরি হয়নি, দ্রুততার সঙ্গে তা তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।