দার্জিলিঙে গ্লেনারিজ-এর ভবিষ্যত্ কী? জেনেনিন কি জানাচ্ছে কর্ণধার

‘HOPE’। ঐতিহ্যবাহী গ্লেনারিজ-এর মালিক অজয় এডওয়ার্ডসের কাছে এখন এটাই শেষ সম্বল। কারণ, কেবলমাত্র পানশালাই নয়, পুরোপুরি বন্ধ হতে পারে দার্জিলিংয়ের ১৫০ বছরের পুরনো, বিখ্যাত এই রেস্তোরাঁ ও ক্যাফেটির দরজা। ক্রিসমাস ও নিউ ইয়ারের মরসুমে ব্যবসা মার খেলে, কেবল বেকারি দিয়ে কর্মচারীদের মাইনে ও অন্যান্য খরচ সামলানো অসম্ভব হবে, আর সেই কারণেই সম্পূর্ণ শাটডাউনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন অজয় এডওয়ার্ডস।
তবে হাল ছাড়ছেন না তিনি। পানশালা পুনরায় চালু করতে এবার তিনি দ্বারস্থ হচ্ছেন কলকাতা হাইকোর্টের। ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্টের (IGJF) আহ্বায়ক অজয় এডওয়ার্ডস bangla.aajtak.in-কে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে এই গুরুতর উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।
🔥 কেন আচমকা সাসপেন্ড হলো পানশালা?
গ্লেনারিজের সঙ্গে কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের ট্রিনকাস-এর থেকেও পুরনো লাইভ মিউজিকের ইতিহাস জড়িত। কিন্তু আচমকা তাদের পানশালার অনুমোদন খারিজ করে দিয়েছে রাজ্য সরকারের আবগারি দফতর।
অজয় এডওয়ার্ডস-এর অভিযোগ:
-
আবগারি দফতরের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছর পানশালার লাইসেন্স রিনিউ করতে হয় এবং লাইভ মিউজিকের জন্য পুলিশের অনুমতি নিতে হয়।
-
তিনি জানান, গত বছরও তাঁরা আবেদন করেছিলেন এবং দার্জিলিংয়ের SP প্রবীণ প্রকাশ অনুমতিপত্রে স্বাক্ষরও করেছিলেন।
-
কিন্তু সেই অনুমতিপত্র আবগারি দফতরের কাছে পৌঁছয়নি বলে দাবি করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ এখন বলছে, তাঁরা নাকি আবেদনই করেননি—যা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি অজয় এডওয়ার্ডসের।
-
কোনো কারণ ছাড়াই আচমকা লাইসেন্স খারিজ করা হয়েছে।
🌉 গ্লেনারিজ-এ কোপ কি ‘গোর্খাল্যান্ড ব্রিজ’ তৈরির জের?
লাইসেন্স সাসপেন্ডের পিছনে কোনো রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন অজয় এডওয়ার্ডস। তিনি সম্প্রতি ৩২টি সমাজের জনগণের সাহায্যে একটি সেতু নির্মাণ করেছেন, যার নাম দিয়েছেন ‘গোর্খাল্যান্ড’ ব্রিজ।
তিনি সরাসরি রাজনীতিকে দোষারোপ না করলেও প্রশ্ন তুলেছেন, “গোর্খাল্যান্ড সেতু তৈরি করে আমি এখানকার মানুষের আবেগকে সম্মান জানিয়েছি…তাহলে ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে আমার পানশালায় কেন রেড হলো? ফলে এটা কাকতালীয় নয়।”
অজয় এডওয়ার্ডসের মতে, এই সেতু শুধু বালি, পাথর ও সিমেন্টের নয়, এতে পাহাড়ের মানুষের আবেগ জড়িয়ে আছে। আর সেই কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
📉 বড়দিনের মুখে বিশাল ক্ষতির মুখে ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁ
বড়দিন ও বর্ষবরণের সময় গ্লেনারিজ-এ বিশেষ সেলিব্রেশন হয় এবং পর্যটকদের ভিড়ও বাড়ে। ঠিক এই সময়ে পানশালায় তালা পড়ায় ব্যবসার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
-
সাসপেনশনের আগে গ্লেনারিজ-এর দৈনিক ব্যবসা ছিল ১২-১৩ লক্ষ টাকা।
-
এক ধাক্কায় তা ৫০% কমে বর্তমানে দৈনিক সাড়ে ৬ লক্ষে নেমে এসেছে।
গ্লেনারিজ-এর রোজগার থেকেই সেতু নির্মাণ, রাস্তা তৈরি এবং গরিব মানুষের চিকিৎসার খরচ দেওয়া হয়। এছাড়াও, রেস্তোরাঁটিতে প্রায় ২৫০ জন কর্মী কাজ করেন, যাঁদের অনেকের বয়স বেশি হলেও তাঁরা অবসর নেননি। এই কর্মীদের পরিবারের দায়িত্ব অজয় এডওয়ার্ডসের কাঁধে। ব্যবসা না চললে এদের ভবিষ্যৎ ঘোর অনিশ্চিত।
🏛️ আইনি লড়াইয়ে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, এরপর কী?
অজয় এডওয়ার্ডস আইনি পথেই সমস্যার মোকাবিলা করতে চান। তিনি জানিয়েছেন, কলকাতা হাইকোর্টে মামলার প্রস্তুতি চলছে। প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য তাঁদের হয়ে মামলা লড়বেন।
তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সুরাহা না মিললে এবং শুধুমাত্র বেকারি বা ক্যাফেটেরিয়া চালিয়ে কর্মীদের বেতন, বিদ্যুৎ খরচ ও চিমনির অতিরিক্ত ব্যয়ভার সামলানো না গেলে, ১৫০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী গ্লেনারিজ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন!
❌ মুখ্যমন্ত্রীর সাহায্য নেবেন না
রাজনীতির বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে, অজয় এডওয়ার্ডস জানান যে তিনি রাজ্য বা কেন্দ্র, কারও থেকেই সাহায্য নেবেন না। তাঁর মতে, দার্জিলিংকে চিরকাল অবহেলা করা হয়েছে এবং “বাংলায় সৎ পথে থেকে ব্যবসা করার কোনও পরিবেশই নেই।” তবে তিনি এও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যদি মনে করেন এটা অন্যায় হচ্ছে, তাহলে উনি যা করার করবেন।
ভিড়ে ঠাসা ম্যাল রোডের মাঝে উজ্জ্বল লাল রঙের হরফে লেখা ‘HOPE’-এর সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা কিংবা গ্লেনারিজের চিকেন স্টেকের সঙ্গে পানীয়তে চুমুক দেওয়ার চিরাচরিত দৃশ্যটি কি তবে শৈল শহরে আর চোখে পড়বে না? দার্জিলিংপ্রেমীরা এখন গভীর মনখারাপে।