ইমরান খানের বার্তা ফাঁস হতেই ক্ষিপ্ত মুনিব! জেল গেটে রাতভর তাণ্ডব, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত বহু কর্মী – কেন এত ভয় পাক সেনাপ্রধানের?

পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং সেনা প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের মধ্যে চলা তীব্র সংঘাত এবার প্রকাশ্যে চরম রূপ নিল। রাওয়ালপিণ্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি ইমরান খানের সঙ্গে তাঁর তিন বোন—নওরিন, আলিমা ও ড. উজমা’কে সাপ্তাহিক সাক্ষাতে বাধা দেওয়ায় নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে, কড়া ঠান্ডার মধ্যেই ১১ ঘণ্টা ধরে জেল গেটের কাছে ধরনায় বসে থাকেন তাঁরা এবং পিটিআই সমর্থকরা।
মঙ্গলবার দুপুরে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশ নিয়ে তাঁরা দেখা করতে এসেছিলেন, কিন্তু জেল গেট থেকে ৫০ মিটার দূরে তাঁদের আটকে দেওয়া হয়। রাত প্রায় ২:২০ মিনিটে যখন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তখন পুলিশ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে ওয়াটার ক্যানন (জল কামান) ব্যবহার করে। এই বর্বর হামলায় বেশ কিছু পিটিআই কর্মী আহত হন।
মুনিবের বিরুদ্ধে ‘সরাসরি আক্রমণ’ই কি কারণ?
এই কঠোর পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে ইমরান খানের লাগাতার আক্রমণ। তিনি সাপ্তাহিক সাক্ষাতের সুযোগ ব্যবহার করে শাহবাজ শরিফের পরিবর্তে সরাসরি ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে নিশানা করছেন। তিনি জনগণকে বারবার বলেছেন যে মুনিরই দেশের আসল শাসক এবং তিনিই মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতির জন্য দায়ী। ১২ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁর বোনদের দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। ৪ ডিসেম্বরের সাক্ষাতের পর ইমরান খান যখন মুনিরকে ‘সন্ত্রাসবাদের জন্য দায়ী’ বলে বার্তা দেন, তার পরদিনই আবার দেখা করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
অন্যদিকে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ইমরান খানকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ এবং ‘মানসিক রোগী’ বলে এই সংঘাতকে আরও আনুষ্ঠানিক করেছেন।
স্বাস্থ্য নিয়ে জল্পনা! নওয়াজ শরিফের সঙ্গে তুলনা
বোনদের সাক্ষাতে বাধা দেওয়ার পর ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে গুজব ছড়িয়েছে। যদিও ডাক্তারদের একটি দল (PIMS) আদিয়ালা জেল পরিদর্শন করেছে, কিন্তু সরকার পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করতে রাজি নয়। এই নিয়ে ইমরান খানের বোন আলিমা খানম নিয়াজি প্রশ্ন তুলেছেন: নওয়াজ শরিফ যখন জেলে ছিলেন, তখন তাঁর নিজস্ব ডাক্তার ছিল, অথচ ইমরান খানকে এক বছরে একবারও তাঁর নিজস্ব ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। এই সংঘাত এখন ইমরান খান বনাম আসিম মুনিবের সরাসরি লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।