গোয়ার নাইটক্লাব অগ্নিকাণ্ড! ২৫ জনের মৃত্যু, মালিকরা ব্যাংকক পালায়! সিবিআইয়ের ব্লু কর্নার নোটিস?

শনিবার গভীর রাতে উত্তর গোয়ার জনপ্রিয় বাগা সমুদ্রসৈকতের কাছে আরপোরায় এক নৈশক্লাবে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কমপক্ষে ২৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২০ জনই ছিলেন ওই ক্লাবের কর্মী এবং বাকি পাঁচ জন গোয়া ভ্রমণে আসা পর্যটক। রাতের অন্ধকারে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা ক্লাবের লেলিহান শিখা গোটা এলাকাকে গ্রাস করে ফেলে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরই নৈশক্লাবের দুই মালিক সৌরভ এবং গৌরব লুথরা, যারা ‘লুথরা ব্রাদার্স’ নামে পরিচিত, তারা তড়িঘড়ি দেশ ছেড়ে থাইল্যান্ডে পালিয়ে যান। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে এবার ইন্টারপোলের সাহায্য নিচ্ছে সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাদের বিরুদ্ধে ‘ব্লু কর্নার নোটিস’ জারির জন্য ইন্টারপোলকে অনুরোধ করেছে। একই সঙ্গে গোয়া পুলিশের পক্ষ থেকেও দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছে ‘লুক আউট সার্কুলার’ (এলওসি)।
এদিকে, সোমবার আচমকাই ক্লাব মালিক ও চেয়ারম্যান সৌরভ লুথরা ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট শেয়ার করে জানান, কর্তৃপক্ষ এই ভয়াবহ ঘটনায় ‘ভীষণভাবে স্তব্ধ ও মর্মাহত’ এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি তাদের আন্তরিক সমবেদনা রয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেন, নৈশক্লাব কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সাহায্য ও সমর্থন দেবে। লুথরা আরও লেখেন, শোকের এই মুহূর্তে ক্লাব কর্তৃপক্ষ নিহতদের পরিবার ও আহতদের পাশে অটুটভাবে রয়েছে।
গোয়া পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাত প্রায় সাড়ে ১২টা নাগাদ আগুন লাগার সময় ক্লাবটিতে কর্মী ও পর্যটক মিলিয়ে ১০০ জনেরও বেশি মানুষ ছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের পরপরই দুই মালিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। যদিও ঘটনার সময় তারা দিল্লিতে ছিলেন। গোয়া পুলিশের একটি দল তাদের গ্রেফতার করতে দিল্লি পৌঁছালেও তাদের খোঁজ মেলেনি। বাড়িতে নোটিস দিয়ে ফিরে আসে পুলিশ।
এরপর ব্যুরো অফ ইমিগ্রেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ জানতে পারে যে, রবিবার ভোর সাড়ে ৫টায় দুই ভাই থাইল্যান্ডের ফুকেতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। এর পরই সিবিআইয়ের সহায়তায় ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং লুথরা ব্রাদার্সকে গ্রেফতারে সহায়তা এবং ব্লু কর্নার নোটিস জারির অনুরোধ করা হয়েছে।