ক্লাব নাকি অফিস? মেট্রো রেলের নির্দেশিকায় বিপাকে কলকাতা ক্লাব ক্রিকেটের ১৮ জন প্রথম সারির ক্রিকেটার

কলকাতা ফুটবল লিগের এক সময়ের পুরানো সমস্যা— ‘ক্লাব বনাম অফিস’— এখন কলকাতার ক্লাব ক্রিকেটে বড় আকার নিয়েছে। সমস্যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মেট্রো রেল স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের একটি নির্দেশিকা, যার জেরে মেট্রো রেলে কর্মরত ক্রিকেটাররা বড় সমস্যায় পড়েছেন। তাঁদের কাছে এখন ‘অফিস রাখি না ক্লাব রাখি’ এই দ্বন্দ্ব এক বড় বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন মেট্রো রেল এই নির্দেশ জারি করল?
সামনে সর্বভারতীয় রেলওয়েজ টুর্নামেন্ট রয়েছে। সেই টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি মেট্রো রেল জোরকদমে শুরু করতে চায়। মেট্রো রেলে একাধিক ক্রিকেটার কর্মরত, তাই টুর্নামেন্টের জন্য তাদের ব্যবহার করা স্বাভাবিক। সেজন্য ক্রিকেটারদের অনুশীলনে যোগ দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে মেট্রো রেল।
নির্দেশিকার মূল কথা:
সময়সীমা: নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ৩ ডিসেম্বর থেকে গোটা ডিসেম্বর মাসজুড়ে রেলের আসন্ন টুর্নামেন্টের জন্য প্র্যাকটিস ছাড়া অন্য কোথাও খেলা যাবে না।
ছুটি বাতিল: এই সময়ের মধ্যে কোনও ছুটিও নেওয়া যাবে না।
সিএবি লিগে নিষেধাজ্ঞা: এই সময়ে সিএবি লিগেও অংশ নিতে পারবেন না কেউ।
কারা সমস্যায়?
এই নির্দেশিকা জারি হওয়ার পর কলকাতা ক্রিকেট লিগে খেলা ১৮ জন ক্রিকেটার ও দুই কোচ সমস্যায় পড়েছেন। এরা প্রত্যেকেই মেট্রো রেলে চাকুরিরত। পাশাপাশি স্থানীয় ক্রিকেটেও বিভিন্ন দলে খেলেন বা কোচিং করান। অনেকেই আবার বড় দলেও খেলেন।
কোচ: দুই কোচ সফি আহমেদ ও অভিজিৎ সিকদারকেও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং তাঁদেরও রেলের প্র্যাকটিসে বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে।
বড় ক্লাবগুলির ক্রিকেটার:
মোহনবাগান: বিবেক সিং, অরিন্দম ঘোষ, শাকির হাবিব গান্ধি।
ইস্টবেঙ্গল: আকাশ পাণ্ডে।
মহামেডান স্পোর্টিং: নীলকণ্ঠ দাস।
এছাড়াও তালিকায় রয়েছেন ময়দানের অত্যন্ত পরিচিত মুখ প্রীতম চক্রবর্তী, সৌম্য পাকড়ে, ঋতম কুণ্ডু, অভিজিৎ সিং, অমিত কুইল্যা, তৌফিকউদ্দিন মণ্ডল, তুহিন বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌরভ কুমার সিং, অঙ্কিত কুমার, আরিফ আনসারি, অতনু ঘোষ, কৌশিক মাইতি ও দেবপ্রতিম হালদার। উল্লেখযোগ্যভাবে, সৌরভ ও শাকিররা চলতি মরশুমে বাংলার হয়ে রঞ্জি ট্রফিও খেলছেন।
মেট্রো রেলের হুঁশিয়ারি ও সিএবি-এর নীরবতা
মেট্রো রেলওয়ে স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন অনুমতি ব্যতীত কাউকে ছুটি না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এখানেই শেষ নয়, বিজ্ঞপ্তিতে রীতিমতো হুঁশিয়ারির সুরে বলা হয়েছে, অনুশীলনে কারা যোগ দিচ্ছেন আর কারা গরহাজির থাকছেন; তার তালিকা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
ফুটবলে এই সমস্যা অতীতে দেখা গেলেও রাজ্য ফুটবল নিয়ামক সংস্থা কোনও ভূমিকা নিত না। এবার সিএবি (CAB)-ও একই অবস্থান নিয়েছে। তারা জানিয়ে দিয়েছে, এই সমস্যা ক্রিকেটার, ক্লাব এবং মেট্রো রেলের। সিএবি কোনো উদ্যোগ নেবে না। তাই গোটা ডিসেম্বরে ভরা ক্রিকেট মরশুমে ক্লাব বনাম অফিস খেলা নিয়ে সমস্যা ফের উপস্থিত।