উত্তরবঙ্গের দুই ট্যুইন সিটির উন্নয়নের পরিকল্পনা, আইআইটি-কে দিয়ে ‘কন্ট্রোল প্ল্যান’ তৈরির উদ্যোগ

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মতো শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি, এই দুই ‘ট্যুইন সিটি’তে ল্যান্ড ব্যাংক তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। প্রত্যেকটি সরকারি জমি চিহ্নিত করে সেগুলোকে সংরক্ষণ করা এবং কোথাও দখল হয়ে থাকলে, তা দখলমুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। এই ল্যান্ড ব্যাংক ধরেই আগামীতে উন্নয়নের পরিকল্পনা করবে রাজ্য সরকার।
তাই এবার শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িতে সরকারি জমির ব্যবহার নিয়ে তৈরি করা হবে ‘কন্ট্রোল প্ল্যান’। আর এই বিষয়ে খড়গপুর আইআইটি-কে দিয়ে কাজ করানো হবে। কয়েক দফায় বণিক সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকের পর একথা জানিয়েছেন শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এসজেডিএ)-এর চেয়ারম্যান দিলীপ দুগগার।
উন্নয়ন ও বিনিয়োগের লক্ষ্য
এসজেডিএ চেয়ারম্যান দিলীপ দুগগার বলেন, “দু’বছরে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়িতে হোটেল ব্যবসায় বিনিয়োগ হবে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। ইতিমধ্যে কিছু সংস্থা এখানে কাজও শুরু করেছে।”
পরিকল্পনা: তিনি জানান, “তাই এবার ল্যান্ড ব্যাংক ডিমার্কেশন করে তার জন্য একটা কন্ট্রোল প্ল্যান আমরা তৈরি করব। তার জন্য আইআইটির সহযোগিতা নেওয়া হবে। এতে উন্নয়নের কাজে অনেকটা সুবিধা হবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত প্রকল্প
ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের সদস্য রিচা ঘোষের নামে শিলিগুড়িতে স্টেডিয়াম তৈরি করবে রাজ্য সরকার। সেই সঙ্গে মহাকাল মন্দির ও আন্তর্জাতিকমানের কনভেনশন সেন্টার করা হবে বলেও মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন। এসজেডিএ-র চেয়ারম্যান দাবি করেন, এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে শহরের চেহারা পাল্টে যাবে এবং বিপুল কর্মসংস্থান হবে।
বণিক মহলের দীর্ঘদিনের দাবি
শহর দু’টির জমির ব্যবহার নিয়ে কন্ট্রোল প্ল্যান তৈরি করার দাবি অনেক দিনের। আইসিসি, ক্রেডাই, সিআইআই, উত্তরবঙ্গ টি পার্ক, উত্তরবঙ্গ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা সেই জন্য কন্ট্রোল প্ল্যান তৈরির দাবি করে আসছিলেন অনেক দিন ধরেই। সেই দাবিকে মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নিল এসজেডিএ।
এলইউডিসিপি তৈরি
এসজেডিএ-র চেয়ারম্যান দিলীপ দুগগার পরে বলেন, “শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িতে ল্যান্ড ইউজ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কন্ট্রোল প্ল্যান (LUDCP) তৈরি করা হবে। এই ব্যাপারে রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। শীঘ্রই খড়গপুর আইআইটি-কে সংশ্লিষ্ট কাজের দায়িত্ব দেওয়া হবে। এতে সংশ্লিষ্ট দুই শহরে বাসস্থান, বাণিজ্য ও শিল্পের এলাকা চিহ্নিত করা হবে। কাজেই সেই প্ল্যান ধরে পরবর্তীতে উন্নয়ন করতে ব্যাপক সুবিধা হবে।”
তিনি আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে জেলায় জেলায় ক্ষুদ্রশিল্প নিয়ে সভা করা হচ্ছে। শিলিগুড়িতে হোটেল ব্যবসায় এবছর ৫ হাজার কোটি টাকা এবং আগামী বছর আরও ৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হবে। প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হওয়ার পর প্রচুর মানুষের সরকারি অনুমোদিত বেসরকারি শিল্পতালুক এবং সরকারি কর্মসংস্থান হবে।