অপারেশন সিঁদুরের পর ফের সক্রিয়! জইশ হেডকোয়ার্টার বাহাওয়ালপুরে লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গিদের হাইভোল্টেজ মিটিং

২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের পর পর জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে গিয়েছিল। ভারতীয় সেনার সেই অভিযানের অন্যতম টার্গেট ছিল বাহাওয়ালপুর, যা কুখ্যাত জঙ্গি শিবির জইশ-এ-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed)-এর প্রধান ঘাঁটি। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক রিপোর্ট দাবি করেছে যে, তাদের হাতে এমন একটি ছবি এসেছে, যেখানে দেখা গিয়েছে, জইশের বাহাওয়ালপুর হেডকোয়ার্টারে জঙ্গিদের এক হাইভোল্টেজ মিটিং হয়েছে।
কেন এই বৈঠক শিরোনামে?
এই বৈঠকটি খবরের শিরোনাম কাড়ার কারণ হলো, এতে পাকিস্তানের দুই কুখ্যাত জঙ্গি শিবির— লস্কর-ই-তৈবা (LeT) ও জইশ-এ-মহম্মদ (JeM)-এর সন্ত্রাসীরা একসঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়েছে। বাহাওয়ালপুরে জইশের হেডকোয়ার্টারে এই ধরনের মিটিং শেষ কবে দেখা গিয়েছে, তা নিয়ে নিরাপত্তা মহলে জল্পনা রয়েছে।
উপস্থিতি: রিপোর্ট বলছে, ওই মিটিং-এ লস্করের ডেপুটি চিফ সইফুল্লা কসুরি লস্করের বাকি কমান্ডারদের সঙ্গে উপস্থিত ছিল।
তাৎপর্য: এই বাহাওয়ালপুরেই অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় সেনা বিপুল বোমা বর্ষণ করেছিল। আর সেখানেই এই দুই গোষ্ঠীর জঙ্গিদের বৈঠক নিঃসন্দেহে কোনো সুখকর বার্তা নয়। প্রশ্ন উঠছে, এই বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে? কোনো বড় নাশকতার প্ল্যানিং-এ কি রয়েছে পাক জঙ্গিরা?
হামলার সংযোগ ও ফান্ডিং রুট
এই দুই জঙ্গি গোষ্ঠীর নাম ভারতের অতীতের বড় হামলার সঙ্গে যুক্ত:
পহেলগাঁও হামলা: এর নেপথ্যে মূল হোতা ছিল পাকিস্তানের লস্কর-ই-তৈবা।
দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণ: এই ঘটনায় জইশ-এ-মহম্মদ জঙ্গি শিবিরের নাম উঠে এসেছে।
এদিকে, লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্তে নেমে তদন্তকারীরা বিপুল পরিমাণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট কেনার টাকার উৎস খুঁজছিলেন। জঙ্গি মডিউলের ফান্ড রাইজিং ছিল তদন্তকারীদের নজরে। তদন্তের সূত্র ধরে তাঁরা ‘সাডা অ্যাপ’ নামে একটি পাকিস্তানি অ্যাপের সন্ধান পান। এই অ্যাপ দিয়েই হয়েছে টাকার লেনদেন, যা জঙ্গি ফান্ডিং-এর নতুন রুট হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের রাওয়ালকোটেও ফের জঙ্গি লঞ্চপ্যাড তৈরি হতে শুরু করেছে। উল্লেখ্য, এই পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের বহু জঙ্গি শিবিরকে অপারেশন সিঁদুরে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারতীয় সেনা।