‘ভোট ছাড়া কিছু বোঝে না বিজেপি’! সংসদে ‘বন্দে মাতরম’ আলোচনা নিয়ে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর

সোমবার সংসদে ‘বন্দে মাতরম’-এর সার্ধ শতবর্ষ উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা চলাকালীন বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদকের দাবি, শাসক দল বিজেপি ভোট ছাড়া আর কিছু বোঝে না। যেহেতু বাংলায় নির্বাচন দুয়ারে কড়া নাড়ছে, তাই সংসদে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে আলোচনায় এত আগ্রহী কেন্দ্র ও শাসক দল।

প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর বক্তব্য, “বিজেপি ও সরকার দুটি উদ্দেশ্য সামনে রেখে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী। প্রথম উদ্দেশ্য— স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে হেয় করা এবং দ্বিতীয় উদ্দেশ্য— নিজেদের স্বাধীনতা সংগ্রামী প্রমাণ করা।” বিতর্কে কংগ্রেস নেতারা বারবার এই দাবি তোলেন যে, বিজেপির ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে কিছু বলার নৈতিক অধিকার নেই, কারণ স্বাধীনতার লড়াইয়ে এই দলের নেতা বা পূর্বসূরিদের কোনও অবদান ছিল না।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’-এর এ বছর সার্ধ শতবর্ষ উপলক্ষে সোমবার লোকসভায় ১০ ঘণ্টাব্যাপী বিশেষ আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। আলোচনার সমাপ্তি ভাষণ দেবেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। সকালে আলোচনার শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, ‘বন্দে মাতরম’-এর খণ্ডিত অংশ ব্যবহার করে কংগ্রেস গানটির অমর্যাদা করেছে।

পাল্টা কংগ্রেসের বক্তব্য, ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে এই বিতর্ক অনর্থক। মহাত্মা গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মতো বরেণ্য মানুষদের উপস্থিতিতে গানটির প্রথম দুটি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। প্রথম স্তবক দুটিতে জাতীয় সম্প্রীতির কথা বলা রয়েছে। কিন্তু পরের স্তবকগুলো ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত হয়েছিল।

এই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখেই প্রিয়ঙ্কা গান্ধী আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আমরা (কংগ্রেস) ভোটে হেরে যেতে পারি। তারপরও আমরা শুধু নির্বাচন নিয়ে মেতে থাকি না। আমরা দেশের কথা ভেবে রাজনীতি করি। অন্যদিকে, বিজেপির ভাবনায় শুধু ভোট। বাংলায় ভোট আসন্ন বলেই ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে আলোচনায় কেন্দ্রের এ আগ্রহ।”

কংগ্রেসের লোকসভার উপনেতা তরুণ গগৈও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘বন্দে মাতরম’-কে হাতিয়ার করে গেরুয়া শিবির স্বাধীনতা সংগ্রামের নতুন ইতিহাস লিখতে চাইছে। গগৈ আরও বলেন, যেকোনো ইস্যুতে জওহরলাল নেহরু ও কংগ্রেসকে নিশানা করা প্রধানমন্ত্রী মোদীর স্বভাবে পরিণত হয়েছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী ১৪ বার নেহরু এবং ৫০ বার কংগ্রেসের নাম নিয়েছেন এবং সংবিধান নিয়ে আলোচনায় নেহরুর নাম ১০ বার ও কংগ্রেসের কথা ২৬ বার বলেছেন।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01